মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি:
মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার হাসাইল বানারী ইউনিয়নে জমির মালিকানা–সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও দখলচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।
সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসাইল বানারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনের অংশসহ ভেতরের কয়েকটি কাঠামো ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী কামারখাড়া ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামের মৃত দুলাল মৃধার ছেলে তানজিল ও তানভীরের নেতৃত্বে কয়েকজন এসে কার্যালয়টি ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাঙচুর বন্ধ করেন এবং যাদের জমির মালিকানার দাবি রয়েছে তাদেরকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেন।
এলাকাবাসীর দাবি, আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি যেখানেই নির্মিত হয়েছে সেটি সরকারি খাসজমি। স্থানীয়দের অনেকেই বলেছেন, ভাঙচুরকারীরা এলাকায় পরিচিত নন এবং তারা কীভাবে জমির মালিকানা দাবি করছেন, তা স্থানীয়দের অজানা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তানজিল মৃধা বলেন, “আমাদের পৈতৃক জমির উপর অবৈধভাবে আওয়ামী লীগ নেতারা কার্যালয় নির্মাণ করেছে। তাই আমরা আমাদের জমি উদ্ধারে গিয়েছিলাম।” প্রশাসনকে বিষয়টি জানানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “নিজেদের জমি আমরা নিজেরাই উদ্ধার করবো, এতে প্রশাসনকে জানাবার প্রয়োজন নেই।”
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হাসাইল বানারী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম.এ. জামান এপোলো বলেন, “ভাঙচুরের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখি মালিকানার দাবি তুলে একপক্ষ ঘর ভাঙছে। আমি তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ করাই এবং বলি—যদি তাদের মালিকানা থাকে তবে আইনানুগভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ ভাঙচুরের দায় আমাদের দলের ওপর চাপানো হবে—এ দায় বিএনপি নিতে পারে না।”
হাসাইল বানারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান দেওয়ান বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে যাই। গিয়ে দেখি কার্যালয় ভাঙা হচ্ছে। আমি তাদের ভাঙচুর বন্ধ করতে বলি এবং আলোচনা সাপেক্ষে সমাধানের আশ্বাস দিই।”
টঙ্গীবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, “ঘটনা সম্পর্কে এখনও কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”