পাবনার ঈশ্বরদীতে পাবনা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলের প্রচারণায় বিএনপির হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থকদের দফায় দফায় হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। তালেব মন্ডলের গাড়ি সহ শতাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চর গড়াগড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি। তাদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদীর চড় গড়গড়ি এলাকায় দুইদিন আগে স্থানীয় জামায়াতের কর্মীদের মারধর করেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মক্কেল মৃধা ও লোকজন। সেই ঘটনার পর আজ ওই এলাকায় প্রচারণা চালাতে যান পাবনা-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল ও তার সমর্থকরা। তারা চর গড়গড়ি আলহাজ্ব মোড়ে পৌঁছালে মক্কেল মৃধার ছেলের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা করে।
পরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ফের পথে মৃধাপাড়ায় আবারও হামলা চালায় মক্কেল মৃধার লোকজন। এতে আবু তালেব মন্ডলের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। তাকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়, তবে সামান্য আহত হন। এছাড়া জামায়াতের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন, তাদের শতাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, আমাদের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির আওতায় আজকে সেখানে গিয়েছিলাম কিন্তু হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থক বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়, আমাদের ওপর গুলিবর্ষণ করেছে। আমার গাড়িসহ আমাদের শতাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। অন্তত ৬০-৭০ জন আহত হয়েছেন।
বিএনপির নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, জামায়াতে ইসলামীর লোকজন পরিকল্পিতভাবে ঘটনা ঘটিয়ে বিএনপির ওপর এককভাবে দায় চাপানোর চেষ্টা করছে।
সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুর রহমান হামদু মেম্বার বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করেছে। জামায়াতে ইসলামীর হামলায় সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের আহবায়ক মক্কেল মৃধা,
তার ছেলে মনিরুল ইসলাম, যুবদলের সদস্য লালন মৃধা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য আলীম হোসেন বাঁধনসহ বিএনপির ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের ঈশ্বরদী ও পাবনার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনার পর রাতে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা ঈশ্বরদী শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে হামলার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ঈশ্বরদী থানার ওসি আ.স.ম. আব্দুন নূর বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঈশ্বরদী থানার পুলিশ, পাকশী ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথভাবে ঘটনাস্থলে রয়েছি। অভিযোগ বা মামলা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রূপপুর গ্রিন সিটি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটার আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন,”আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখি আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কয়েকটি পুড়ে যাওয়া মোটরসাইকেল দেখতে পাই।”