বদরুল আলম, সখীপুর (টাঙ্গাইল)
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দল থেকে পদত্যাগের হিড়িক পড়ে গেছে। গত সোমবার রাতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ চারজন এবং আজ মঙ্গলবার উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান সাজু দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণাপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন।
দলের একটি সূত্র জানায়, এ সংকট দীর্ঘদিনের তবে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কিছু চেয়ারম্যানকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এড.আহমেদ আযম খান দলীয় ব্যানারে আনার কারণে সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। জানাযায়, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দল পুনর্গঠনের নামে কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর–বাসাইল) আসনের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান ‘আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন’ এবং ‘দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী আচরণে লিপ্ত হয়েছেন। এসব অভিযোগে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের পাঁচজন জ্যেষ্ঠ নেতা একযোগে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারী নেতারা হলেন— সখীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান সাজু, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাছেদ মাস্টার, সহসভাপতি আব্দুল মান্নান, গজারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ এবং ৮নং বহুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ মিয়া।
পদত্যাগপত্রে নেতারা আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনায় দল পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার পর অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান তাঁদের প্রতি ‘বিমাতা সুলভ অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ’ করেছেন। পাশাপাশি ত্যাগী ও দীর্ঘদিনের কর্মীদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত এবং অনুপ্রবেশকারী ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে—যা দলীয় নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী।উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছেদ মাস্টার তার পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন, পুনর্গঠন নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তাকে অবমাননাকর আচরণের শিকার হতে হয়েছে। সহসভাপতি আব্দুল মান্নান, আব্দুর রউফ এবং আব্দুল লতিফ মিয়াও একই ধরনের অভিযোগ পেশ করেছেন।
গজারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ পৃথক আর একটি পোস্টে লিখেছেন, “সবিনয়ে সকল ফেসবুকার ও সাংবাদিক ভাইদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে নিরব প্রতিবাদ হচ্ছে তা অনেকের চিন্তার বাইরে। মোটেও ভাববার কারন নাই যে আমরা শুধু ৪জন। ভালো থাকুন দেখতে থাকুন।”
এদিকে, এই চার নেতার পদত্যাগপত্র ভাইরাল হওয়ায় সখীপুর উপজেলা বিএনপির রাজনীতির অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। ভাইরাল পোস্টগুলোতে কমেন্টস অপশনে নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগমুহূর্তে এমন গণপদত্যাগ সখীপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ও ঐক্যকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করতে পারে। এতে ওই দলের মনোনীত প্রার্থীর ভরাডুবির আশংকাও রয়েছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাছেদ মাস্টার বলেন, দলের নেতারা ১৫/১৬ বছর আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের নানা ধরনের অত্যাচার, হামলা,মামলা সহ্য করে রাজনীতি করেছেন। এখন আওয়ামী দোসরদের দলীয় সর্বস্তরের কার্যক্রমে সামনের সারিতে এনে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান। আমি তার প্রতিবাদ করলে তিনি আমার সাথে বিমাতা সুলভ অনাকাঙ্ক্ষিত অসৎ আচরণ করেন। যাহা দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী। তার মতো জাতীয় নেতা কর্তৃক বিমাতা সুলভ অসাংগঠনিক আচরণের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে দলীয় সকল পদ পদবী থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি। তিনি আরও বলেন, অন্যদেরও হয়তো আমার মতো ক্ষোভ রয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান সাজু বলেন,সখীপুরে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এড. আহমেদ আজম খানের আওয়ামী পুনর্বাসন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে অশালীন ভাষায় কথা বলার প্রতিবাদে দলীয় সর্বপ্রকার পদ-পদবী থেকে পদত্যাগ করেছি। এ পদত্যাগের সংখ্যা দুই শতাধিক হতে পারে।
উল্লেখ এর আগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান সাজু, পৌর বিএনপি’র সভাপতি নাসির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মীর আবুল হাসেমকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়।
উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন মাস্টার বলেন, সামান্য ভুল বুঝাবুঝির ঘটনা ঘটেছে। এটি অল্প সময়ের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।