‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নিজস্ব প্রার্থী নিয়ে এ আসনে নির্বাচন করবে। আপনারা যাকে চাইবেন সে ই এ আসনেই নির্বাচন করবে। আপনারা যদি আমাকে চান, তাহলে আমি আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে এ আসনে নির্বাচনে লড়াই করবো।
দল কি সিদ্ধান্ত দিলো, জোট কি সিদ্ধান্ত দিলো জানি না। এ আসনে আমরা নির্বাচন করবোই করবো। কোন শক্তিই আমাদের বাধাগ্রস্থ করতে পারবে না ইনশাল্লাহ।’
এ আসনের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক হিসাব টেনে বলেন, আমরা এখন বিজয়ের দ্বার প্রান্তে আছি। কোন পরগাছা, কোন ভাড়াটিয়া, কোন তথাকথিত নেতার নেতৃত্বে আমরা এ আসনে নির্বাচন করবো না।’
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিপিসি স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে শুক্রবার বিকাল ৫টায় অনুষ্ঠিত বিএনপি’র জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন।
সভায় হাসান মামুন আরো বলেন, ‘নির্বাচন সামনে আসছে। বহু তালবাহানার জোট, বহু দল আপনারা দেখতে পারবেন। যদি শক্তি থাকে, নিজেদের ক্ষমতার জোরে, জনসমর্থনের জোরে এ আসন জিতে দেখান। জাতীয়তাবাদী দল এখানে কারো করুণায় রাজনীতি করে না এবং কাউকে বর্গা দেওয়ার জন্য এখানে জাতীয়তাবাদী দল তৈরি হয় নাই।’
তিনি কোন দলের সমালোচনা না করে বলেন, ‘আমরা হোসাইন মুহাম্মাদ এরশাদকে দেখেছি, বগুড়ায় এক কথা বলে, ফরিদপুরে এক কথা বলে, ঢাকায় এসে এক কথা বলে, মসজিদে গিয়ে এক কথা বলে আবার মন্দিরে আরেক কথা বলে।
আমরা কাউকে হোসাইন মুহাম্মাদ এরশাদের সাথে তুলনা করতে চাই না। কিন্তু ৫ আগস্টের পরে একজন তরুণ নেতা, যিনি আমাদের খুবই ঘনিষ্ঠ ছোট ভাই তার বক্তব্য শুধু যাচাই করবেন যে, কোন সপ্তাহে কী বলেন, তার চরিত্র কোনটা, তার নীতি কোনটা, রাজনীতি কোনটা।
জাতীয়তাবাদী দল তার শত্রু মিত্র চিনতে সক্ষম। কোন হঠকারী নেতার সাথে গলাচিপার-দশমিনার বিএনপির কোন নেতা-কর্মীর সম্পর্ক নাই।’
গলাচিপা সদর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মো. নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. বাহাউদ্দিন খলিফার সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সিদ্দিকুর রহমান। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুস সাত্তার হাওলাদার।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপি’র সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন খান, উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর হোসেন খান, আ. সালাম মৃধা, আবু ইউসুফ রাড়ি, মো. জসিম উদ্দিন রাড়ি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাকসুদ আলম তালুকদার, মাসুম বিল্লাহ,
মাসুম বিল্লাহ (মিয়া), সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, মো. আমিরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মশিউর রহমান শাহিন, আসাদুজ্জামান সবুজ, শহিদুল ইসলাম মোল্লা, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া,
দপ্তর সম্পাদক প্রভাষক মো. ফজলুর রহমান, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক প্রভাষক মু. হারুন অর রশিদ, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মো. সাজ্জাদুর রহমান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক জাহিদুল ইসলাম মিন্টু, স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক মো. আলী জিন্নাহ প্রমুখ।
এছাড়াও জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীসহ সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রাপ্ত ২৩৭ টি আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করলেও পটুয়াখালী-৩ আসন হোল্ড করে রাখা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে গুঞ্জন ওঠেছে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ জোট হলে এ আসনটি গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর কে ছেড়ে দিতে পারে।