রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা
সাবেক সংসদ সদস্য মো. মতিয়ার রহমান তালুকদার আর নেই। সোমবার রাত সোয়া ৭টার দিকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে আমতলী–তালতলী এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানা গেছে, তিনি বরগুনার আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামের আলহাজ্ব মো. আফতাব উদ্দিন তালুকদারের তৃতীয় ছেলে। ১৯৪৭ সালে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করে ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।
১৯৮৮ সালে চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পেয়ে বরগুনা–৩ (আমতলী–তালতলী) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বরগুনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানও ছিলেন এবং দীর্ঘদিন এ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আবারও বরগুনা–৩ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন। পরে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং উপ-নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে তিনি আমতলী–তালতলীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ভূমিকা রাখেন।
তিনি বরগুনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সর্বশেষ বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। গত কয়েক বছর তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা–১ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে গণসংযোগ করেন; তবে গত ৩ নভেম্বর দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি মনঃক্ষুণ্ণ হন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে ঢাকার বাসায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সোয়া ৭টার দিকে তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আমতলী–তালতলীতে পৌঁছামাত্রই শোকের ছায়া নেমে আসে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রয়াত মতিয়ার রহমান তালুকদারের ছোট ভাই, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. আবু জাফর তালুকদার বলেন, “তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সোয়া ৭টার দিকে মারা গেছেন।”