মঈন উদ্দীন, বান্দরবান প্রতিনিধি
বান্দরবানের থানচি উপজেলার নাফাখুম জলপ্রপাতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া তরুণ পর্যটক মো. ইকবাল হোসেন (২৪)–এর মরদেহ নিখোঁজের ৪৮ ঘন্টা পর উদ্ধার করেছে ডুবুরি দল।
গত শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় নাফাখুমে গোসল করতে নেমে জলপ্রপাতের গভীর গুহায় সৃষ্টি হওয়া কুরুমে আটকে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন। নিখোঁজের পর থেকে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি, স্থানীয় গাইড এবং বোট মাঝিরা টানা অভিযান চালিয়ে আসছিল।
অবশেষে রবিবার (১৬ নভেম্বর) বিকেল ৪টায়, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ স্টেশনের স্টেশন অফিসার ও ডুবুরি দলের প্রধান রহিদুল ইসলাম নেতৃত্বাধীন দল নাফাখুমের পানির নিচের গহীন গুহা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তিনজন ডুবুরি পর্যায়ক্রমে অক্সিজেন সেটআপ নিয়ে গুহার ভিতরে প্রবেশ করে মরদেহ উদ্ধার করেন।
থানচি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা তারুণ বড়ুয়া বলেন,“নাফাখুম জলপ্রপাতের পাথুরে এলাকা এবং তীব্র স্রোতের কারণে অভিজ্ঞ গাইড ছাড়া সেখানে ছবি তোলা, ভিডিও করা অথবা গোসল করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পর্যটকদের কোনোভাবেই গাইড ছাড়া সেখানে না যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।”
থানচি থানার ওসি নাছির উদ্দিন মজুমদার জানান, উপপরিদর্শক মো. রিয়াজুলের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের পুলিশ দল মরদেহ থানায় নিয়ে আসছেন। নাফাখুম থেকে থানচি পর্যন্ত যাতায়াতে পায়ে হেঁটে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লাগে।“রাতে থানায় পৌঁছাতে দেরি হতে পারে। আগামীকাল সকালে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ-আল-ফয়সাল জানান,
“নাফাখুমে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তারা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই সেখানে গিয়েছেন এবং অনুমোদিত গাইডও নেননি। কীভাবে তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নাফাখুমে পৌঁছালেন — তা তদন্ত করা হচ্ছে।”
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ৯ অক্টোবর থেকে কেএনএফ ও শারকীয়ার জঙ্গিদের দমনে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হলে ২০ অক্টোবর থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে নাফাখুমে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।