১১২-পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হাসান মামুন ব্যতীত অন্য কোনো প্রার্থী বা জোটকে মানবে না— এমন দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা।
রবিবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে দশমিনা উপজেলার আলিপুর ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের বিশাল জনসভায় এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রকাশ পায়।
সভায় বক্তারা বলেন, “পটুয়াখালী-৩ আসনের নেতা-কর্মীরা বহু বছর দুঃসময়ের ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে বিএনপির পতাকা উঁচিয়ে রেখেছেন। আমরা চাই, পরীক্ষিত, ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতা হাসান মামুনকেই ধানের শীষের প্রার্থী করা হোক। অন্য কোনো জোট বা ভাড়াটে রাজনীতিককে এই অঞ্চলের মানুষ মেনে নেবে না।”
বক্তারা আরও বলেন, “দশমিনা-গলাচিপা বিএনপি আজ আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ। আমাদের একটাই দাবি— হাসান মামুনকেই প্রার্থী করা হোক, নইলে কোনো বিকল্প প্রার্থী বা আপস মেনে নেওয়া হবে না।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন বলেন,
“শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক। ১৯৭৫ সালের এই দিনে তিনি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে জাতিকে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপহার দিয়েছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার দিবসটি বাতিল করে গণতন্ত্রের শিকড় কেটে দিয়েছে। গত ১৭ বছর ধরে শেখ হাসিনা সরকার পুলিশ ও প্রশাসনের বন্দুকের নলের সামনে মানুষকে জিম্মি করে, ব্যাংকগুলো লুট করে বিদেশিদের হাতে দেশের সম্পদ তুলে দিয়ে ক্ষমতায় টিকে আছে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে ছাত্র সমাজ গত ১৭ বছর ধরে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু স্বৈরাচারী সরকার দমননীতি চালিয়ে তাদের রুখে রাখতে চেয়েছিল। তবুও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র জনতা বুকের রক্ত দিয়ে দেশের স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্তি এনে দিয়েছে।”
অতীতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে হাসান মামুন বলেন, “গলাচিপা-দশমিনা আসনে আওয়ামী লীগের নির্যাতনে শহীদ হন আলহাজ্ব মো. শাহজাহান খান ও আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা। তারা এ অঞ্চলে সংগঠনের নেতৃত্ব দিলেও ২০১৮ সালের নির্বাচনে গোলাম মাওলা রনিকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়ার পর নেতাকর্মীরা জেল-জুলুমের শিকার হন, অথচ তিনি একবারও তাদের খোঁজ নেননি। এক গাছের ছাল আরেক গাছে লাগে না— এক দলের নেতা অন্য দলের কর্মীদের আপন মনে করে না।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “আগামী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত পটুয়াখালী-৩ আসনে কেউ যেন কোনো ষড়যন্ত্র করতে না পারে, সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।”
এদিকে, কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড পটুয়াখালী-৩ আসনে প্রার্থীর নাম ‘হোল্ড’ রাখায় চলছে নানান আলোচনা। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, আসনটি গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের জন্য খালি রাখা হতে পারে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন আলিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আবু বকর সিদ্দিক। সাধারণ সম্পাদক বাদল খলিফার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুব আলম ফরাজি, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মো. খোরশেদ আলম, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ওহাব চৌধুরী, সহসভাপতি মোফাজ্জেল হোসেন প্যাদা, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম শানু ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফকরুজ্জামান বাদল প্রমুখ।
সভা উপস্থিত হাজারো নেতা-কর্মী ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠে ঘোষণা দেন—হাসান মামুন আমাদের প্রার্থী, ধানের শীষের বিজয়ের লড়াইয়ে আমরা একতাবদ্ধ থাকবে।