রোকুনুজ্জামান, জবি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীতে চলমান ট্রলারের উপর দিয়ে লঞ্চ চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। যেখানে সকলে প্রাণে বেঁচে গেলেও ঘটনার শিকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর মানসিক উৎকন্ঠা কাজ করছে।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাত প্রায় ১০ টার দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর লালকুঠি মসজিদ সংলগ্ন ঘাটে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে তাৎক্ষণিক সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিরাপদে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন সদরঘাট নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহাগ রানা ও ঘটনায় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা।
উক্ত দুর্ঘটনার শিকার পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ মোকছেদুল ইসলাম সিরাজের কাছ থেকে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাওয়লী সন্ধ্যা উপভোগ করতে আসা পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী রাতে বুড়িগঙ্গায় নৌকা নিয়ে ঘুরতে বের হয়। তারা জবির ১৮, ১৯, ২০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। কিন্তু হটাৎ করে মাঝপথে তাদের ট্রলার অফ হয়ে যায় এবং কিছুক্ষণ পর একটি লঞ্চের নিচে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী চাপা পড়ে। অতঃপর আশেপাশের লোকজন ও নৌকার সহায়তায় তারা সকলে প্রাণে বাঁচতে সক্ষম হন।
দুর্ঘটনার স্বীকার পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী রিজভী বলেন, “মহান আল্লাহ পাকের অশেষ রহমতে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরেছে। এখনও সেই ঘটনা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। নিজেই বিশ্বাস করতে পারছি না কি থেকে কি হয়ে গেল। তবুও সবাই প্রাণে বেঁচে আছি এটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় নিয়ামত। আমাদের মাঝে এখনও অনেকে মানসিকভাবে ট্রমাটাইজড। সকলেই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।”
সদরঘাট ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, “জবি শিক্ষার্থীদের নিয়ে নৌকা ডুবির সঙ্গে সঙ্গে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা প্রস্তুত ছিলাম। তবে তার আগেই তাদের সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে।”
সদরঘাট নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহাগ রানা বলেন, “নৌকায় ১৫-২০ জন জবি শিক্ষার্থী ছিলেন। নৌকায় লঞ্চের ধাক্কা লাগার সঙ্গে সঙ্গে তারা সবাই নৌকা থেকে বুড়িগঙ্গা নদীতে লাফ দেয়। পরে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে এবং তারা নিরাপদে রয়েছেন।”