আক্কাস আলী, মুন্সিগঞ্জ
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি গ্রামে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা সদস্যের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনসহ প্রায় ৫৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার দিবাগত রাত সোয়া তিনটার দিকে উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ফজলুল হকের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ফজলুল হকের মেয়ে সাথী বেগম জানান, “রাত একটার দিকে হালকা শব্দ শুনে ঘুম ভেঙে যায়, কিন্তু তখন গুরুত্ব দেইনি। রাত তিনটার দিকে তাহাজ্জুতের নামাজ পড়তে উঠলে দেখি জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে পড়ে দুই যুবক। তারা অস্ত্রের মুখে আমাকে ও আমার ছেলে সাবিদকে জিম্মি করে ফেলে। এরপর একে একে চারটি ফ্ল্যাটে লুটপাট চালায়। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তারা পুরো বাড়ি তছনছ করে।”
তিনি আরও বলেন, “ডাকাতরা নগদ তিন লাখ টাকা, ৩২ ভরি স্বর্ণালংকার ও নয়টি মোবাইল সেট নিয়ে যায়। যাওয়ার আগে সবাইকে একটি কক্ষে আটকে বাইরে থেকে তালা মেরে পালিয়ে যায়।”
ফজলুল হকের ছেলে সাবিদ জানান, ডাকাত দলের সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ২৫ জন। “প্রথমে দুইজন গ্রিল কেটে ঢোকে, পরে আরও ২০-২২ জন যোগ দেয়। বাইরে কয়েকজন পাহারা দিচ্ছিল। তাদের মুখে মাস্ক ও গামছা ছিল। আমাকে অস্ত্রের মুখে বাধ্য করে একে একে সব রুমের দরজা খোলানো হয়,” বলেন তিনি।
অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ফজলুল হক জানান, “আমার তিন ছেলে বিদেশে থাকে। তাদের পাঠানো স্বর্ণালংকার ও সম্প্রতি ব্যাংক থেকে তোলা তিন লাখ টাকাসহ সব লুট করে নিয়ে গেছে তারা। ডাকাতরা আমাদের পরিবার সম্পর্কে আগেভাগে অনেক তথ্য জানত। মনে হচ্ছে, এর সঙ্গে স্থানীয় কেউ জড়িত।”
প্রতিবেশী লাক মিয়া বলেন, “ভোর পাঁচটার দিকে আমরা জানতে পারি ঘটনাটি। বাইরে থেকে তালা দেওয়া ঘর খুলে পরিবারটিকে উদ্ধার করি। এর আগেই ডাকাতরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।”
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, “সকাল ছয়টার দিকে ৯৯৯ থেকে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।”