নরসিংদীর রায়পুরার চরাঞ্চলে র্যাব এর অভিযানে বিপুল পরিমান অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (০১অক্টোর) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিং এসব তথ্য জানায় র্যাব -১১ মিডিয়া সেল।
প্রেস ব্রিফিং এ জানা যায়, র্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল নিজস্ব গোয়েন্দ নজরদারি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার( ০১ নভেম্বর) ভোরে রায়পুরা থানাধীন সায়েদাবাদ এলাকায় রাতভর সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে ০২ টি বিদেশী পিস্তল, ০৫ টি একনলা বন্দুক, ০১ টি দুইনলা বন্দুক, ০২ টি এলজি, ০১ টি পাইপগান, ০৩ টি ম্যাগাজিন ও ৩৫ রাউন্ড গুলিসহ ০৮ জনের একটি সন্ত্রাসীদলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলো ডালিম মিয়ার ছেলে মোঃ শফিক মিয়া (৩২) মৃত সামছুল মিয়ার ছেলে মোঃ মোস্তফা (৩৮), দুলাম মিয়ার ছেলে জাহিদ হাসান (১৭) মৃত মহাজুদ্দিন এর ছেলে আয়নাল (৩৮) জাকের হোসেন এর ছেলে মহিউদ্দিন হৃদয় (২২), মৃত আলী হোসেন এর ছেলে মোঃ বাচ্চু মিয়া (৬২), মৃত সামাদ মিয়ার ছেলে কালু মিয়া (৬৯), মৃত খলিল রহমানের ছেলে মোঃ বাছেদ (৪০)। তারা সবাই সায়দাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। উল্লেখিত, আসামীদের মধ্যে কয়েকজনের নামে হত্যা সহ একাধিক মামলা রয়েছে।
প্রেস ব্রিফিং আরও জানা যায়, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলাধীন সায়দাবাদ এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়শই বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে নরসিংদীর চরাঞ্চলে সংঘর্ষে সন্ত্রাসীদের গুলিতে একজন নিহত হয়, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে নরসিংদীর রায়পুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং একজন আহত হওয়া,
২০ জুলাই ২০২৫ তারিখে নরসিংদীর রায়পুরায় চরাঞ্চলে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নারী নিহত হয় এবং ২২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে নরসিংদীর সদর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল আলোকবালিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তদের গুলিতে একজন নিহতের মতো ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনাগুলো মূলত দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটে। উল্লেখ্য যে, নরসিংদী এলাকার বিভিন্ন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে রায়পুরার চরাঞ্চলে আত্মগোপনে চলে যায়।
যেহেতু রায়পুরার সায়দাবাদ এলাকাটি চর অঞ্চল বেষ্টিত সেহেতু সন্ত্রাসীরা সেখানে অস্ত্র গোলাবারুদ মজুদ করে সেখান থেকে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই দুর্গম এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করতে গেলে প্রায় সময়ে সন্ত্রাসীরা একত্রিত হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর অতর্কিত হামলা চালায়। মূলত রায়পুরা চরাঞ্চলটি সন্ত্রাসীদের একটি অভয়ারণ্য পরিণত হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে এই অভিযান চালানো হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত আসামিরা রায়পুরার চরাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারের জন্য পার্বত্য চিটাগাং এর পাহাড়ি এলাকা থেকে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র বানানোর কারিগর এনে নিজেরা আগ্নেয়াস্ত্র বানাচ্ছিল। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়ানোর লক্ষ্যে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিজেদের হেফাজতে মজুদ করে রেখেছিল।
গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম করার জন্য থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন