মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় হঠাৎ বেড়ে ওঠা শিয়ালের তাণ্ডবে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ২১ জন আহত হয়েছেন। চার দিন ধরে চলা এই ঘটনায় আতঙ্কে অচল হয়ে পড়েছে দুইটি গ্রামের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের মধুপুর ও কেয়াইন ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে। গত শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) থেকে সোমবার পর্যন্ত সময়ে দুটি গ্রামে শিয়ালের কামড়ে আহত হন ২১ জন।
স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, প্রথমে মধুপুর গ্রামে একাধিক মানুষকে শিয়াল কামড়ানোর পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন পাশের ইসলামপুর গ্রামেও একইভাবে শিয়ালের আক্রমণ শুরু হয়।
আহতদের মধ্যে ইসলামপুর গ্রামের অহেদুল বেপারী (৪৮), মুখলেস (৫২), কুদ্দুস (৪৪), মাজেদা বেগম (৬০), তালহা (৯), ঝুনু (১০), আব্দুল্লাহ (১৭) ও জরিনা বেগম (৬৫) রয়েছেন। অন্যদিকে মধুপুর গ্রামের আহতদের মধ্যে ফরিদা পারভীন (৪০) ও আয়েশাসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গুরুতরদের ঢাকার মহাখালীতে প্রেরণ করা হয়েছে। সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এখন গ্রামের মানুষ সন্ধ্যার পর ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। কেউ কেউ দিনের বেলাতেও হাতে লাঠি বা কাঠের টুকরো নিয়ে চলাফেরা করছেন। শিয়ালের ভয়ে বিদ্যালয়গুলোতেও ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি অনেক কমে গেছে।
মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান শেখ বলেন,
“শিয়ালের কামড়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক আহত হওয়ায় মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।”
কেয়াইন ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বেলায়েত হোসেন রাজু জানান,
“আমার ওয়ার্ডের ১৩ জনকে শিয়াল কামড়েছে। সবাই এখনো মানসিকভাবে ভয় পাচ্ছে। রাতে কেউ বাইরে থাকছে না।”
সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জামশেদ ফরিদী বলেন,
“যেসব আহত আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছেন, তাঁদের আমরা ভ্যাকসিন দিয়েছি। বাকিরা ঢাকায় চিকিৎসা নিয়েছেন।”