মোঃ জয়নাল আবেদিন ,রাজশাহী ব্যরো
রাজশাহীর দূর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় চলছে অবৈধ পুকুর খননের মহোৎসব। উর্বর তিন ফসলি জমি ভেকু মেশিন দিয়ে কেটে তৈরি করা হচ্ছে বিশাল আকারের দীঘি।
ফলে একদিকে যেমন কমছে আবাদযোগ্য জমি, অন্যদিকে জমে থাকা পানিতে সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছে কৃষক ও পরিবেশ— অথচ প্রশাসন রয়ে গেছে নীরব দর্শকের ভূমিকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কিসমতগৈনকড় ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের হিন্দুপাড়ায় খতিয়ানে মাত্র ২ বিঘা জমি পুকুর হিসেবে উল্লেখ থাকলেও সেখানে ভেকু মেশিন দিয়ে প্রায় ৮ বিঘা ভিটা জমিতে পুকুর খনন চলছে। স্থানীয়ভাবে “ বাবলু মেকার ” নামে পরিচিত এক ব্যক্তি নিজেকে সংবাদকর্মী পরিচয় দিয়ে এ খনন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাকে সহযোগিতা করছেন একই ইউনিয়নের হেজাতিপাড়ার ভেকু দালাল জাহাঙ্গীর।
এ বিষয়ে জমির মালিক বারু সরকার ও মধু সরকার বলেন, “গত বছর জাহাঙ্গীর পুকুর খননের জন্য জমি নিয়েছিল। পরে সাংবাদিক বাবলু এসে বলে বেশি কেটে পুকুর করলে বেশি টাকা পাওয়া যাবে। এখন সে-ই লিজ নিয়ে খনন করছে। কীভাবে করছে আমরা জানি না।”
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কথিত সাংবাদিকদের ছত্রছায়ায় চলছে এসব অবৈধ খনন। প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এমন কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে চালানো হচ্ছে। এতে করে একদিকে আবাদি জমি কমছে, অন্যদিকে গ্রামীণ সড়কগুলোর বেহাল দশা হচ্ছে। মাটি বহনের ট্রাক ও ট্রাক্টরের দাপটে প্রতিদিনই নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ রাস্তা, ঘটছে দুর্ঘটনা।
অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের কারণে এলাকার কৃষি উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, রাজশাহীতে বিগত কয়েক বছরে মাছ চাষের পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়েছে, তবে একই সঙ্গে কমেছে আবাদি জমির পরিমাণ। জলাবদ্ধতায় প্রতিবছরই ক্ষতির মুখে পড়ছেন শত শত কৃষক।
এ বিষয়ে পুকুর খননের সহযোগী জাহাঙ্গীর বলেন, “আমরা জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়েই খনন করছি। স্থানীয় প্রশাসনকেও জানানো আছে। নিউজ করতে চাইলে করেন, আমাদের সমস্যা নেই।” তবে অনুমতিপত্র দেখতে চাইলে তিনি জানান, “গত বছরই অনুমতি নেওয়া হয়েছিল, কাগজপত্র সাংবাদিক বাবলুর কাছে আছে। এই পুকুরের সব দায়িত্ব তার।”
পরিবেশ অধিদফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, “এভাবে পুকুর খনন ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন ঘটায়, যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকায় এই প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে।”
এ বিষয়ে দূর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন এর কাছে জানার জন্য একাধিক বার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করে নাই।