বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

দুমকীতে অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা ঘরহীন, বরাদ্দ গেল স্বচ্ছলদের হাতে

রাব্বিকুল ইসলাম ,দুমকী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকীতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে— প্রকৃত অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছলদের অস্বচ্ছল দেখিয়ে আবাসনের বরাদ্দ নেওয়া হয‎২০২২ সালের ৩১ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল বাকের মো. তৌহিদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে পটুয়াখালী জেলার পাঁচটি উপজেলায় ১৪৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা বা তাঁদের পরিবারের অনুকূলে […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৪ অক্টোবর ২০২৫, ২০:৪১

রাব্বিকুল ইসলাম ,দুমকী প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকীতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে— প্রকৃত অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছলদের অস্বচ্ছল দেখিয়ে আবাসনের বরাদ্দ নেওয়া হয‎২০২২ সালের ৩১ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল বাকের মো. তৌহিদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে পটুয়াখালী জেলার পাঁচটি উপজেলায় ১৪৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা বা তাঁদের পরিবারের অনুকূলে আবাসন বরাদ্দের প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়।

এর মধ্যে দুমকী উপজেলার ১৮ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম অন্তর্ভুক্ত ‎প্রথম ধাপে ১২ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে তালিকার ১–৬ ক্রমিকের মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের (৩য় পর্যায়) ২০২৩–২৪ অর্থবছরে বাদ পড়া ওই ৬ জন মুক্তিযোদ্ধার অনুকূলে বরাদ্দ আসে।

এ লক্ষ্যে ২০২৪ সালের ২৮ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দরপত্র আহ্বান করেন এবং উপজেলার মুরাদিয়া এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তারিক ব্রাদার্সকে কাজের দায়িত‎প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ৬ হাজার ৭৪ টাকার প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০২৪ সালের ১০ জুন প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়।

কিন্তু জুলাই আন্দোলনের পর আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা হারালে প্রকল্পে নাটকীয় পরিবর্তন দেখা দ‎পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠিতে প্রকৃত অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা ঘর পেয়েছেন কি না তা যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ নির্দেশনার পর স্থানীয় একটি মুক্তিযোদ্ধা সিন্ডিকেট পূর্বের তালিকায় থাকা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে আপত্তি জানিয়ে প্রভাব খাটিয়ে নতুন করে একটি মনগড়া তালিকা‎এর ফলেই দেখা দেয় অনিয়ম— ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর উপজেলা প্রশাসনের পাঠানো প্রতিবেদনে স্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের অস্বচ্ছল এবং অস্বচ্ছলদের স্বচ্ছল দেখানো হয়।

ওই তালিকায় দুইজন সরকারি কর্মকর্তা ও দুইজন মুক্তিযোদ্ধার স্বাক্ষর রয়ে‎এর জেরে ৪ জন মুক্তিযোদ্ধার ঘর নির্মাণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ঠিকাদার মো. তারিকুল ইসলাম জানান, “প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশে ওই ৪ জন মুক্তিযোদ্ধার ঘর নির্মাণ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।‎এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পলি করের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি উল্লিখিত মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থ–সামাজিক অবস্থা পুনঃযাচাই করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও মৎস্য কর্মকর্তাকে সদস্য করে দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল ক‎যাদের ‘অস্বচ্ছল’ দেখানো হয়েছে‎ তালিকার ১ নম্বরে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমান আকন— তাঁর দুইটি বাস ও গাড়ি রয়েছে; সেনানিবাস কর্তৃপক্ষ তাঁর নামে থাকা ১ একর জমি ৩ কোটি টাকায় অধিগ্রহণ করেছে‎৩ নম্বরে সুলতান হাওলাদার, অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক; চার ছেলে ও দুই মেয়ে সবাই কর্মরত।

‎৫ নম্বরে খন্দকার আবদুর রহিম, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা; দুই ছেলে সরকারি চাকরিজীবী।‎৬ নম্বরে রাজা অলিউল হক, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা।৭ নম্বরে হোচেন আলী খান, ১ একর খাস জমি বরাদ্দ পেয়েছেন।‎৮ নম্বরে এস. এম. নূরুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা।

‎১০ নম্বরে প্রয়াত আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান; সন্তানরা সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে কর্মরত‎১৫ নম্বরে প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক মৃধা, সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন; মেয়ে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক। যাদের ‘স্বচ্ছল’ দেখানো হয়ে‎১৩ নম্বরে আবদুল লতিফ মিয়া, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী; দুই ছেলে সরকারি চাকরিজীবী, নিজে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত, ঘর জরাজীর্ণ।‎

১৬ নম্বরে সফিজ উদ্দিন খান, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা; চলাচলে অক্ষম, এক ছেলে বেকার, বসবাস করেন ভাঙা টিনের ঘরে।১৭ নম্বরে টি. এম. আহমেদ, দুই স্ত্রী; এক ছেলে সরকারি চাকরিজীবী হলেও ঘরদোর অতি জীর্ণ। ‎১৮ নম্বরে প্রয়াত ডা. রাজেশ্বর হালদার, স্ত্রী বৃদ্ধ ও চলাচলে অক্ষম; ভাঙা ঘরে বসবাস, ঘরটি রশি দিয়ে গাছের সাথে বাঁধা অবস্থায় রয়েছ‎বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল লতিফ মিয়া বলেন,

‎“কিছু মুক্তিযোদ্ধা সাবেক ইউএনও শাহিন মাহমুদের সাথে মিলে আমাদের স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করেন। আমি জানি না কীসে স্বাক্ষর দিয়েছি।”

‎প্রয়াত রাজেশ্বর হালদারের ছেলে রমেন হালদার বলেন, “ভাঙা ঘরে মা ও স্ত্রীকে নিয়ে কষ্টে আছি। ঘর পেতে তিন শতাংশ জমি বিক্রি করে ৭০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। এখন শুনি আমি নাকি স্বচ্ছল!‎বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিজ উদ্দিন খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“আমার কাছেও দুই লাখ টাকা চেয়েছিল একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি বলেছি, ঘুষ দিয়ে ঘর চাই না— ভাঙা ঘরেই থাকবো।”‎কমিটির সদস্যদের বক্তব্য

‎তালিকায় স্বাক্ষর করা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম বলেন,“আমাকে বলা হয়েছিল শুধু স্বাক্ষর দিতে। আমি জানতাম না আমি কমিটির সদস্য।”‎অন্য সদস্য আ. মানান হাওলাদার গুরুতর অসুস্থ থাকায় তাঁর মতামত পাওয়া যায়নি। ‎উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আলী জানান,“সেই সময় কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ইউএনও অফিসে এসে আমাদের স্বাক্ষর করতে বলেন।

সরেজমিন যাচাই তাঁরা করেছেন।‎উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. অলিউল ইসলাম বলেন,“আমরা সরেজমিন যাচাই করিনি; মুক্তিযোদ্ধারা যাচাই করেছেন, আমরা শুধু স্বাক্ষর করেছি।”উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন,“গত বছরের ২৫ নভেম্বরের তদন্তে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।