আক্কাছ আলী মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
আলুর জন্য বিখ্যাত মুন্সিগঞ্জে এবার মৌসুম শুরুর আগেই দেখা দিয়েছে সারের বাজারে অস্থিরতা। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি হওয়ায় কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এতে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে আলুচাষিদের মধ্যে।
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার রামসিং গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেকের তিন একর জমিতে আলু চাষের প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু বাজারে সারের অতিরিক্ত দাম তার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, “সরকারি দরে টিএসপি সাড়ে ১৩শ’ টাকা হওয়ার কথা, অথচ এখন দিতে হচ্ছে প্রায় সাড়ে ১৮শ’ টাকা। এতে একেক একরে খরচ কয়েক হাজার টাকা বেড়ে যাচ্ছে।”
জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় সার বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ৮ টাকা বেশি দরে। টিএসপি ৩৫-৩৭ টাকা, ইউরিয়া ৩০-৩২ টাকা, ডিএপি ২৭ টাকা এবং এমওপি ২৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ধলগাঁও বাজারের এক বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করেন যে, ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে সার কিনতে হয়। “আমাদের লাভ রাখতেই কিছুটা দাম বাড়াতে হয়,” বলেন তিনি। তবে তার দোকানের সাইনবোর্ডে যাঁর নাম ডিলার হিসেবে লেখা—আলমগীর হোসেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জাপানে অবস্থান করছেন।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে মুন্সিগঞ্জে ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্য রয়েছে। এতে ৯৭ হাজার ৫৬৬ মেট্রিক টন সার লাগবে, যার বাজারমূল্য প্রায় সোয়া ২০০ কোটি টাকা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “মাঠে সারের কোনো ঘাটতি নেই। ডিলাররা নিয়মিতভাবে সার উত্তোলন করছেন। কেউ যদি অতিরিক্ত দামে বিক্রি করে, তদন্তে প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলা কৃষি অফিস জানায়, বর্তমানে মুন্সিগঞ্জে ৭৮ জন বিসিআইসি, ১৫৭ জন বিএডিসি ও প্রায় ৩০০ জন সাব-ডিলার সার বিক্রির সঙ্গে যুক্ত। তবে কৃষকদের অভিযোগ—ডিলারদের অনুপস্থিতিতে তাদের প্রতিনিধি বা মধ্যস্বত্বভোগীরা বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
চাষিরা বলছেন, গত মৌসুমে আলুর দরপতনে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। এবার মৌসুম শুরুর আগেই সারের দাম বাড়ায় আবারও ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষক আব্দুল মালেকের কথায়, “যদি এভাবে দাম বাড়তে থাকে, তাহলে আলু চাষ করে আর লাভ হবে না—বরং লোকসানই গুনতে হবে।”