সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ছয়টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অধিকাংশই কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে আছে। এর মধ্যে দুইটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কোনো স্থাপনাই নেই, আর চারটির তিনটিতেই নেই কোন ডাক্তার। স্থাপনাবিহীন দুই কেন্দ্রের ডাক্তার প্রেষণে রয়েছেন অন্য জায়গায়।
বর্তমানে যে কয়টি কেন্দ্র সচল আছে, সেগুলোতে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো), প্রসূতিবিদ্যা কর্মী ও ফার্মাসিস্ট দিয়ে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা চালু রয়েছে।
সরেজমিনে গত মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বড়চওনা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভবনটির অবস্থা খুবই নাজুক। চারপাশে কাদা, আবর্জনা ও দুর্গন্ধ। পাশেই হাটের বর্জ্য ফেলা হয়, ফলে পরিবেশ একেবারেই অস্বাস্থ্যকর।
টিনের ছাউনি মরিচা ধরে ফুটো, দেয়ালে ফাটল, দরজা-জানালা ভাঙা, বিদ্যুৎ সংযোগ ও পানি সরবরাহ বন্ধ। শৌচাগার সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী। আবাসিক ভবনটি ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে।
উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আবদুল মালেক সিদ্দিকী বলেন, ডাক্তার ও অফিস সহায়ক না থাকায় আমাকে ও ফার্মাসিস্টকে সব কাজ করতে হয়। পরিত্যক্ত ভবনে থাকা সম্ভব না হওয়ায় ১২ কিলোমিটার দূরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হচ্ছে। প্রতিদিন ৭০-৮০ জন রোগী সেবা নিতে আসেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বড়চওনা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৮০ শতাংশ জমি প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। বাকি জমিতে নেই কোনো সীমানা প্রাচীর। আবাসিক ভবনও বসবাস অযোগ্য অবস্থায় পড়ে আছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নূরুল ইসলাম বলেন, জমিটি উদ্ধার করে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি আমাদের। গত ৮-১০ বছরে এখানে কোনো ডাক্তারকে দেখিনি।
উপজেলার ছয় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে দুটি স্থাপনাবিহীন যাদবপুর ও হাতিবান্ধা। যাদবপুরের চিকিৎসক জান্নাত আরা জ্যোতি বর্তমানে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রেষণে আছেন। হাতিবান্ধার চিকিৎসক শামীমা আক্তার কর্মরত আছেন সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
বড়চওনা কেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল কায়েস কর্মরত আছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঢাকায়, বহেড়াতৈল কেন্দ্রের ডা. মরিয়ম আক্তার আছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
সদর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক জামিনি আক্তার চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। কেবল বাঘেরবাড়ি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক শামসুল আলম নিজ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ছালেহা বেগম (৪৫) বলেন, আমি নিয়মিত এখানে আসি। কিন্তু ডাক্তার না থাকায় অন্য রোগে চিকিৎসা নিতে সখীপুর হাসপাতাল যেতে হয়। গরিব মানুষ, বারবার দূরে যাওয়া সম্ভব না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেহানা পারভীন বলেন, বড়চওনা কেন্দ্রের দখলকৃত জমি উদ্ধারের বিষয়টি উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় তোলা হয়েছে। প্রেষণে থাকা চিকিৎসকদের সংযুক্তি বাতিলের আবেদন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সীমানা প্রাচীর নির্মাণের বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল রনী বলেন, সম্প্রতি বিষয়টি অবগত হয়েছি। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত জমি উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।