রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা
বরগুনার আমতলীতে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষক–কর্মচারী রয়েছেন ১৬ জন, কিন্তু শিক্ষার্থী মাত্র ১৫ জন। অথচ ওই ১৫ শিক্ষার্থীর পেছনে সরকার বছরে ব্যয় করছে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, কমিটি, শিক্ষক ও এলাকার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে মাদ্রাসাটিতে শিক্ষার্থী দিন দিন কমে যাচ্ছে।
ঘটনাটি আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের উত্তর কালামপুর গ্রামের হাতেমিয়া দাখিল মাদ্রাসা নিয়ে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, চারটি শ্রেণিকক্ষে মাত্র ১৫ জন শিক্ষার্থী পাঠ নিচ্ছে—দশম শ্রেণিতে ২ জন, নবমে ২ জন ও অন্য দুই শ্রেণিতে ১১ জন। নৈশপ্রহরী আব্দুল জলিলকে দেখা গেছে শিক্ষকদের চেয়ারে বসে থাকতে, কিন্তু ভারপ্রাপ্ত সুপার কামরুজ্জামান কবির তখন মাদ্রাসায় উপস্থিত ছিলেন না।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসাটি শুরু থেকেই নানা অনিয়মে জর্জরিত। কমিটি ও শিক্ষকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছে। এর প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ও ফলাফলে। গত বছর দাখিল পরীক্ষায় ৩৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও পাস করেছে মাত্র ৭ জন। আসন্ন ২০২৬ সালের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ৩৬ জনের, কিন্তু নিয়মিত ক্লাস করছে মাত্র দুইজন।
কাগজে কলমে মাদ্রাসায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী দেখানো হলেও বাস্তবে উপস্থিত শিক্ষার্থী ১৫ জনের বেশি নয়। কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ২০–২৫ জনের বেশি শিক্ষার্থী কখনো ক্লাসে থাকে না। নৈশপ্রহরী আব্দুল জলিল শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, এমনকি শিক্ষকদের চেয়ারে বসে থাকেন।”
মাদ্রাসার সহ-সুপার মাওলানা ফারুক হোসেন দাবি করেন, বৃষ্টির কারণে শিক্ষার্থী কিছুটা কম এসেছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে আরও অনেকে আসে। আমাদের প্রতিষ্ঠানে কোনো অনিয়ম নেই।
অন্যদিকে সাবেক সুপার মাওলানা আব্দুল হাই অভিযোগ করে বলেন, ভারপ্রাপ্ত সুপার কামরুজ্জামান কবির ভুয়া নিয়োগ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তিনি প্রায়ই ঢাকায় থাকেন, মাসে এক–দুবার এসে হাজিরা খাতায় সই দিয়ে চলে যান। মাদ্রাসার সব অনিয়মের মূলেই তিনি।
সুপার কামরুজ্জামান কবির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি দাফতরিক কাজে ঢাকায় আছি। বর্ষাকালে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কিছুটা কমে যায়। এলাকাজুড়ে আরও তিনটি মাদ্রাসা থাকায় শিক্ষার্থী বণ্টিত হয়েছে।”
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জিয়াদ হাসান বলেন, “মাদ্রাসার অনিয়ম সম্পর্কে জেনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান খান বলেন, ১৫ জন শিক্ষার্থী দিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।