আক্কাছ আলী মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ফুলদী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি স্বাধীনতার পর থেকেই এলাকাবাসীর। ২০০২ সালে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হলেও দীর্ঘ ২৩ বছর পেরিয়ে গেছে— এখনো কাজ শুরু হয়নি। ফলে প্রতিদিন ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন হাজারো মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রসুলপুর ঘাটে নদী পারাপারের অপেক্ষায় সারি সারি মানুষ। ছাত্র-ছাত্রী, চাকরিজীবী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে নদী পার হতে হয় দুটি ছোট ট্রলারে। ঝড়বৃষ্টি বা নদীতে স্রোত বেড়ে গেলে পারাপার হয়ে ওঠে ভয়ানক বিপজ্জনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা রসুলপুর এলাকায় ফুলদী নদীর ওপর সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কিন্তু এরপর দুই দশকেরও বেশি সময় কেটে গেলেও কাজ শুরু হয়নি। বর্তমানে নদীর পাড়ে পড়ে আছে কেবল সেই ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক— নীরব সাক্ষী হয়ে।
রসুলপুর, দৌলতপুর, ইমামপুর, আধারমানিক, করিমখাঁ, মাথাভাঙ্গা, গজারিয়া, হোসেন্দী ও ইসমানিরচর গ্রামের প্রায় অর্ধলাখ মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে নদী পার হন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীকে পার হতে হয় এ নদী। গজারিয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজ, গজারিয়া পাইলট মডেল হাইস্কুল, গজারিয়া পাইলট গার্লস স্কুল, বাতেনিয়া আলিম মাদ্রাসা ও মাথাভাঙ্গা মহিলা আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য এটি যেন এক স্থায়ী দুর্ভোগ।
স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল সরকার বলেন, “নদীর এক পাশে ফায়ার সার্ভিস অফিস। কোনো এলাকায় আগুন লাগলে তারা দ্রুত যেতে পারে না। সেতু হলে এই সমস্যাটা অনেক আগেই মিটে যেত।”
বিএনপির কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন বলেন, “এই সেতু শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি এখন গজারিয়াবাসীর প্রাণের দাবি। প্রতিদিন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে পারাপার করছে— এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম বলেন, “ফুলদী নদীর ওপর সেতু নির্মাণ গজারিয়ার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। নদীটি উপজেলার দুটি অংশকে আলাদা করে রেখেছে। প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ জনগণের দৈনন্দিন জীবন এতে ব্যাহত হয়। সরকার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে এবং সম্ভাব্যতা যাচাইসহ কারিগরি কার্যক্রম চলছে।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার যেন সত্যিই নির্মিত হয় সেই কাঙ্ক্ষিত সেতুটি— যা বদলে দিতে পারে পুরো অঞ্চলের জীবনযাত্রা ও যোগাযোগব্যবস্থা।