হাবিবুর রহমান সাগর, কুমিল্লা জেলা
ইউনিয়নের ছোট্ট গ্রাম হেসাখাল পদুয়ার পাড়। গ্রামীণ জীবনের সহজ-সরল আবহে এখানকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পরিশ্রমী, শান্তিপ্রিয় ও ঐক্যবদ্ধ হিসেবে পরিচিত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রবাসে পাড়ি জমানো অনেক তরুণ-যুবক রেমিট্যান্স পাঠিয়ে শুধু পরিবারই নয়, গ্রামকেও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিচ্ছেন। তাদের সেই প্রবাসী আত্মত্যাগ ও ত্যাগকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক অনন্য সামাজিক সংগঠন-“রেমিট্যান্স যোদ্ধা ইউনিটি”।
২০২৪ সালে প্রবাসীদের ঐক্য ও গ্রামের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে সংগঠনটির সূচনা হয়। বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ শুধু পরিবারের জন্য ব্যয় না করে, সমাজের উন্নয়ন ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণে কিছু করার অঙ্গীকারে এগিয়ে আসেন প্রবাসী ভাইয়েরা। এভাবেই জন্ম নেয় “রেমিট্যান্স যোদ্ধা ইউনিটি”-একটি সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
সংগঠনটি মূলত সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের পাশে
দাঁড়াতে কাজ করছে। তাদের লক্ষ্য হলো-
সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণ, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে সহায়তা করা,অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করা,দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বই, গাইড ও শিক্ষাসামগ্রী প্রদান,মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা সৃষ্টি,সামগ্রিকভাবে সমাজের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখা।
প্রতিষ্ঠার অল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠনটি স্থানীয় মানুষদের আস্থা অর্জন করেছে। দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া থেকে শুরু করে অসহায় মানুষকে খাদ্য সহায়তা প্রদান-সবক্ষেত্রেই “রেমিট্যান্স যোদ্ধা ইউনিটি” তাদের কার্যক্রম ছড়িয়ে দিয়েছে। সমাজে মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টিতেও কাজ করছে তারা।
গ্রামের মানুষের একার পক্ষে হয়তো এত বড় উদ্যোগ সম্ভব নয়। কিন্তু প্রবাসী ভাইয়েরা একত্রিত হয়ে যে স্বপ্ন বুনেছেন, তা এখন গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। হেসাখাল পদুয়ার পাড় এখন শুধু একটি গ্রাম নয়, বরং প্রবাসী-দেশীয় মিলিত উদ্যোগে বদলে যাওয়া এক দৃষ্টান্ত।
“রেমিট্যান্স যোদ্ধা ইউনিটি” ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে সমাজসেবামূলক কার্যক্রম হাতে নিতে চায়। বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র উদ্যোগে সহায়তা, এবং পুরো ইউনিয়নে শিক্ষার প্রসার ঘটানো তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
হেসাখাল পদুয়ার পাড়ের এই সংগঠন প্রমাণ করছে-দেশপ্রেম শুধু দেশের মাটিতে নয়, প্রবাস থেকেও প্রকাশ পেতে পারে। প্রবাসীরা কেবল রেমিট্যান্স পাঠিয়েই নয়, সমাজে টেকসই পরিবর্তনের পথও তৈরি করতে পারেন। “রেমিট্যান্স যোদ্ধা ইউনিটি” তাই আজ কুমিল্লার গ্রামীণ সমাজে আশার বাতিঘর হয়ে উঠছে।