আবু তাহের, ক্যাস্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেক আইডি ব্যবহার করে এক শ্রেণির অপতৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এসব ভুয়া আইডি থেকে নিয়মিত অশালীন মন্তব্য, মিথ্যা প্রোপাগান্ডা, ব্যক্তি আক্রমণ ও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার মতো কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সভাপতিকে নিয়ে ফেক আইডি থেকে অপপ্রচার চালানো হয়। এমনকি দর্শন বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী সম্পর্কেও বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি গ্রুপে অশালীন মন্তব্য করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী সেলিনা সেলী বলেন, “ফেক অ্যাকাউন্ট থেকে অপপ্রচার ও হয়রানি দিন দিন বাড়ছে। আমাদের এক সিনিয়রকেও সম্প্রতি মানসিকভাবে আঘাত করা হয়েছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুস্থ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের জন্য বড় হুমকি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজিস্ট মোছা. আদিবা আক্তার জানান, “শিক্ষার্থীরা প্রায়ই অভিযোগ করে যে ভুয়া গ্রুপ ও পেজ থেকে অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। এতে মানসিক চাপ তৈরি হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের পরামর্শের জন্য আমাদের কাছে আসতে হবে, তাদের গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে।”
ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম বলেন, “ভুয়া আইডি ও পেজ থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এটি ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই সবাইকে গুজবে বিশ্বাস না করে তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান জানান, “সবার আগে সচেতন হতে হবে। পোস্ট বা তথ্য শেয়ার করার আগে আইডি যাচাই করতে হবে।”
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, “ফেক আইডির বিষয়ে আমরা আগে থেকেই অবগত। নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তা শনাক্তে আইসিটি সেল কাজ করছে। ইতোমধ্যে কয়েকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রমাণ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, এ ধরনের অপতৎপরতা শুধু ক্যাম্পাসের শান্ত পরিবেশই নষ্ট করছে না, বরং প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ করছে। তাই ফেক আইডি ব্যবহারকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়া হবে।