মোহাম্মদ তারেক ,রামগঞ্জ প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ পৌর শহরের কেন্দ্রস্থল যেন এক দীর্ঘস্থায়ী বর্জ্য-দুঃস্বপ্নে আটকে আছে। শহরের প্রধান মহাসড়কের পাশেই দীর্ঘ এক যুগ ধরে জমে থাকা ময়লার স্তুপ এখন জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও শহরের সৌন্দর্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাত্র ১০০ গজ দূরেই অবস্থিত দুইটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—রামগঞ্জ সরকারি কলেজ ও রামগঞ্জ কামিল মাদ্রাসা। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এবং পথচারী নাকে রুমাল চেপে, দুর্গন্ধ সহ্য করে চলাফেরা করছেন। বাতাসে ভেসে বেড়ানো পঁচা আবর্জনার গন্ধ, ধুলোবালি আর মাঝেমধ্যে পোড়ানো বর্জ্যের ধোঁয়ায় দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় এক শিক্ষার্থী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন,
“প্রতিদিন মনে হয় যেন ডাস্টবিনের ভেতর দিয়ে হেঁটে ক্লাসে যাচ্ছি। স্বাস্থ্য নিয়ে পড়ি, অথচ নিজের জীবনের পরিবেশই এমন—বলা যায় না কতোটা দুঃখজনক!”
স্থানীয়রা বলছেন, বহুবার পৌরসভা ও জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও, প্রতিশ্রুতি ছাড়া কোনো বাস্তব পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। অন্তত ৭-৮ মাস ধরে ময়লার পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।
বসবাসযোগ্য শহর গড়তে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্ধারিত কোনো জমি বা স্থায়ী ডাম্পিং জোনও এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। মাঝে মাঝে এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানালেও, ফলাফল শূন্য।
শুধু শহরের প্রাণকেন্দ্র নয়, অব্যবস্থাপনার ছাপ পড়েছে প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা সোনাপুর বাজারেও। রাস্তা ভাঙাচোরা, কোথাও পানিতে ভরা গর্ত, কোথাও কাদা জমে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে পুরো বাজার। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা।
একজন কাঁচামাল ব্যবসায়ী বলেন,
“এই রাস্তায় গাড়ি আনতে ভয় হয়। বৃষ্টির দিনে তো বোঝাই যায় না, কোথায় ড্রেন আর কোথায় রাস্তা।”
পরিবেশ সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, এখনই সুপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বাজার অবকাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে, আগামীতে শহরের নাগরিক জীবন আরও ভয়াবহ সংকটে পড়বে।
এ বিষয়ে রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. রবিন শীষ জানান,
“বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আসলে এটি দীর্ঘ দিনের সমস্যা। তবে দুঃখজনকভাবে স্থানীয়দের সচেতনতার ঘাটতিও রয়েছে। অনেকেই ভোর বা রাতে চুপিচুপি ময়লা ফেলে যাচ্ছেন। এসব আগুন দিয়ে পোড়ানো হচ্ছে, কিন্তু স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এক যুগ ধরে জমে থাকা এই ময়লার স্তূপ কেবল শহরের সৌন্দর্যই নষ্ট করছে না, বরং রামগঞ্জের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও এক অন্ধকার বার্তা বহন করছে। সময় এসেছে—কথা নয়, কাজ দেখানোর।