শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

প্রার্থিতা নিয়ে দ্বিধায় বিএনপি, সংগঠিত প্রচারণায় শক্ত অবস্থানে জামায়াত

মোহাম্মদ তারেক,রামগঞ্জ প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনটি ১০টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা রয়েছে। আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। তার ওপর সমমনা দল বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ( এলডিপির) চেয়ারম্যান মো. শাহাদাত হোসেন সেলিম বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক পাবেন এমন ঘোষণায় কে হচ্ছেন ধানের […]

প্রার্থিতা নিয়ে দ্বিধায় বিএনপি, সংগঠিত প্রচারণায় শক্ত অবস্থানে জামায়াত

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০১ অক্টোবর ২০২৫, ১৯:১৯

মোহাম্মদ তারেক,রামগঞ্জ প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনটি ১০টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা রয়েছে। আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। তার ওপর সমমনা দল বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ( এলডিপির) চেয়ারম্যান মো. শাহাদাত হোসেন সেলিম বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক পাবেন এমন ঘোষণায় কে হচ্ছেন ধানের শীষের কান্ডারি তা নিয়ে আসনটিতে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই।

এ আসনটি বরাবরই বিএনপির দখলে ছিল। ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে এই আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়ে যায়। এখানে বিএনপি হতে সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত জিয়াউল হক জিয়া তিনবার এবং প্রয়াত নাজিম উদ্দিন আহমেদ দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে ১৪ দলের শরিক তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব এম এ আউয়াল সংসদ সদস্য হন । এছাড়াও ২০১৮ ও ২০২৪ নির্বাচনে আ.লীগের আনোয়ার হোসেন খান আসনটি দখলে নেয়। শেখ হাসিনার পতনের পর এখানকার আ.লীগ নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে কিংবা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে । রাজনীতির মাঠ এখন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর পদচারণায় মুখরিত।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি ।

এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি হতে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন ২০১৮ সালের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. ইয়াসিন আলী, ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক কমিশনার হারুনুর রশিদ, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহসভাপতি ইমাম হোসেন,

রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভিপি আব্দুর রহিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জিয়াউল হক জিয়ার পুত্র মাসফিকুল হক জয়, অন্যান্য দলের একক প্রার্থীরা হচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সাবেক লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি নাজমুল হাসান পাটোয়ারী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বড় ভাই মাহবুব আলম।

তথ্য উপদেষ্টা মোহাম্মদ মাহফুজ আলমের সমর্থকরা মনে করেন, আগামী নির্বাচনে তিনি এ আসনে নিজে প্রার্থী হতে পারেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ লক্ষ্মীপুর জেলার সহসভাপতি মো. জাকির হোসেন পাটোয়ারী । এছাড়া এবি পার্টি হতে কেন্দ্রীয় শিল্প বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক আশরাফ মাহমুদ রুমেল এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোঃজহিরুল ইসলাম এ আসনের প্রার্থী হতে পারেন। আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে তিনি এলাকায় নানা ভাবে গণসংযোগ করছেন।

বিএনপির একাধিক প্রার্থী গণসংযোগে থাকায় সুযোগটি কাজে লাগাতে চায় এলডিপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। এ আসনে জোটের শরীক এলডিপির সঙ্গে বিএনপি সমঝোতা হলে এলডিপির চেয়ারম্যান মো. শাহাদাত হোসেন সেলিম ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। অপরদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী নাজমুল হাসান পাটোয়ারী। বিএনপির একাধিক প্রার্থীর কোন্দলের সুযোগে তিনি দিনরাত উপজেলার একপ্রান্ত হতে অপরপ্রান্ত চষে বেড়াচ্ছেন।

বিএনপির প্রার্থীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মাঠে যদিও বিএনপির একাধিক প্রার্থী গণসংযোগ করছেন। তবে নির্বাচনে যিনিই ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে নামবেন সবাই তার পক্ষে কাজ করবেন। এখনকার বিএনপি নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, যদি এর ব্যতিক্রম হয় তাহলে আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম ইতোমধ্যে রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মীর আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন। শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, আমি ২০১৮ সালে বিএনপি জোটের প্রার্থী হয়ে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করেছি।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণের বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ধানের শীষ প্রতীকের আরেক প্রার্থী হারুনুর রশিদ জানান, ২০১৮ সালে বিএনপি থেকে আমিই নমিনেশন পেয়েছিলাম। কিন্তু তখন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের অনুরোধে বিএনপির নীতি নির্ধারকরা তখন এ আসনটি এলডিপির তৎকালীন মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিমকে ছেড়ে দেন। আশা করি বিএনপি এবার আমাকে মূল্যায়ন করে মনোনয়ন দিবে।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. নাজমুল হাসান বলেন, দেশবাসী পরিবর্তন চায়। গত এক বছর ধরে দেশবাসী সব দলের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেছে, সবাই চায় নতুনত্ব । আশা করি এবার ভোটারা এ আসনটির জামায়াতে ইসলামীকে উপহার দিতে পারব।

এছাড়া অন্যান্য দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি, এবি পার্টিসহ সব দলের প্রার্থীরাই দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এবং প্রত্যেকে প্রত্যেকের জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।