রামগঞ্জ প্রতিনিধি:
রামগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, নির্ভীক ও নীতিবান সাংবাদিক মরহুম ওবায়দুল হকের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার (৩০ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত স্মরণসভা যেন ছিল একজন কিংবদন্তি সংবাদকর্মীর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার অর্ঘ্য।
শুধু একটি দোয়া মাহফিল নয়—এটি ছিল স্মৃতিচারণ, প্রেরণা ও সাংবাদিকতার মানদণ্ড নিয়ে নতুন প্রজন্মের ভাবনার এক অনন্য আয়োজন।রামগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এ স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাব সভাপতি সাংবাদিক আবু তাহের। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাবেক সভাপতি সাংবাদিক মাহমুদ ফারুক।
বক্তারা একে একে তুলে ধরেন ওবায়দুল হকের পেশাগত সততা, সংগ্রামী মনোভাব ও সমাজ পরিবর্তনে তাঁর অবদান।
বক্তব্য রাখেন রায়পুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ওবায়দুল রহমান, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এস এম বাবর বাবুল, সাংবাদিক ওমর ফারুক পাটোয়ারী, মাসুদ রানা মনি ও জাকির হোসেন সুমন।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, সাংবাদিক সাখাওয়াত হোসেন জাহাঙ্গীর, বেলায়েত হোসেন বাচ্চু, এমরান হোসেন পাটোয়ারী, পারভেজ হোসেন, আব্দুর রহমান, রাজু আহমেদ, শাহ্ আলম, কনক মজুমদার, তপন মজুমদারসহ বহু সাংবাদিক ও শুভানুধ্যায়ী।বক্তারা বলেন,
“ওবায়দুল হক শুধু একজন সাংবাদিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন রামগঞ্জের সংবাদ জগতের স্থপতি। তাঁর সততা, নিষ্ঠা ও নির্ভীকতা সাংবাদিকদের জন্য আজও আলোকবর্তিকা।”
আরেকজন বক্তা বলেন,
“যে সময়ে সত্য বলা ছিল কঠিন, সেই সময়ে ওবায়দুল হক নির্ভয়ে কলম ধরেছিলেন। তাঁর মতো মানুষ সমাজে বারবার জন্মায় না।”
সভা শেষে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। সাংবাদিক সহকর্মীরা চোখ ভেজা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এই প্রয়াত সংবাদযোদ্ধার প্রতি।
ওবায়দুল হকের কর্মময় জীবনের প্রতিটি অধ্যায় ছিল ন্যায়ের পক্ষে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে। মৃত্যুর ১৩ বছর পরেও তাঁর নাম উচ্চারণ হয় শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণার সাথে।
রামগঞ্জ প্রেসক্লাবের দেয়ালে টানানো তাঁর প্রতিকৃতি যেন নতুন প্রজন্মকে বারবার মনে করিয়ে দেয়—
“সত্যের পক্ষে নির্ভীক থাকা মানেই সাংবাদিক ওবায়দুল হক হওয়া।”