সাইফুল ইসলাম, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর মহিপুরে আব্দুল হাকিম নামে এক চিকিৎসককে ঘিরে উঠেছে তীব্র বিতর্ক। নিজেকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিলেও সকাল-বিকাল দাঁতের চিকিৎসায় ব্যস্ত তিনি। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, দন্ত চিকিৎসক ভাইয়ের ওয়ারিশ সূত্রে হাকিমও নিজেকে দাঁতের চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন।
অভিযুক্ত চিকিৎসককে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন—চোখের চিকিৎসাসহ আরও ছয়টি বিষয়ে তিনি চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। শুধু তাই নয়, সাংগঠনিক পরিচয় আর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজেকে প্রভাবশালী রূপে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন তিনি।
সাংবাদিকদের সামনে হাকিম সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেন—তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করবেন। এমনকি অতীতে বহু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা দিয়েছেন বলেও দাবি করেন। ঘটনাস্থলেই তিনি ফোনে আরও কয়েকজন সংবাদকর্মীকে হুমকি দেন এবং উপস্থিতদের ভীত-সন্ত্রস্ত করার চেষ্টা চালান।
তিনি অবমাননাকর ভাষায় বলেন—এ এলাকার সাংবাদিকরা শিক্ষিত নন, সাংবাদিকতার জন্য আলাদা পড়াশোনা প্রয়োজন। শুধু বিএ বা এমএ ডিগ্রি দিয়ে সাংবাদিক হওয়া যায় না। এভাবেই তিনি সংবাদকর্মী ও প্রকাশকদের অসম্মান করেন এবং কটাক্ষ করেন।
নিজেকে বহুমুখী চিকিৎসক প্রমাণ করতে হাকিম মোবাইল ফোনে কিছু সার্টিফিকেট প্রদর্শনের চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা দিয়েছেন। অথচ তদন্তে দেখা যায়, তার চেম্বারে টেলিমেডিসিন পরিচালনার জন্য কোনো উপযুক্ত সরঞ্জাম বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল নেই।
স্থানীয় ‘চক্ষু সেবা কেন্দ্র’ পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকরা দেখেন, সেখানে নিয়মিত কোনো চক্ষু চিকিৎসক থাকেন না। বরং রোগীদের বলা হয়—দন্ত চিকিৎসক হারুন আসবেন। এমনকি হাকিমের বাবা সাংবাদিকদের কাছে হারুনের মোবাইল নম্বর দিয়ে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন—একজন চক্ষু চিকিৎসক হয়েও দাঁতের চিকিৎসা চালানো এবং সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার মতো আচরণ কতটা বৈধ ও নৈতিক।