বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া ৩ জন থানায় ছিলেন ‘জামাই আদরে’

রাজধানীর উত্তরায় গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর বাসায় ঢুকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করা সমন্বয়ক পরিচয়ধারী তিনজন থানায়ও ছিলেন ‘জামাই আদরে।’ তাদের গ্রেপ্তারের পর শুরুতে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় নেওয়া হয়। হাজতখানায় না নিয়ে বসানো হয় এক পুলিশ কর্মকর্তার কক্ষে। সেখানে বসেই সিগারেট টানতে থাকেন দুজন, মোবাইল ফোনে নানা জায়গায় কথা বলেন। পুলিশ তাদের ডিম, পরোটা, ডালভাজি ও চা […]

সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া ৩ জন থানায় ছিলেন ‘জামাই আদরে’

সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া ৩ জন থানায় ছিলেন ‘জামাই আদরে’

নিউজ ডেস্ক

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:৫৭

রাজধানীর উত্তরায় গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর বাসায় ঢুকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করা সমন্বয়ক পরিচয়ধারী তিনজন থানায়ও ছিলেন ‘জামাই আদরে।’ তাদের গ্রেপ্তারের পর শুরুতে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় নেওয়া হয়। হাজতখানায় না নিয়ে বসানো হয় এক পুলিশ কর্মকর্তার কক্ষে। সেখানে বসেই সিগারেট টানতে থাকেন দুজন, মোবাইল ফোনে নানা জায়গায় কথা বলেন। পুলিশ তাদের ডিম, পরোটা, ডালভাজি ও চা দিয়ে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করে। সম্প্রতি থানার সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে।

গত বুধবার রাতে এএইচএম নোমান রেজা, তানজিল হোসেন, ফারিয়া আক্তার তমাসহ কয়েকজন সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেনের বাসায় যান। তারা ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে বলে তাকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে তাদের সাড়ে ৫ লাখ টাকা দিয়ে রেহাই পান ওই ব্যবসায়ী। বাকি টাকার জন্য হুমকি দিলে ঘটনার পরদিন উত্তরা-পশ্চিম থানায় চাঁদাবাজির মামলা হয়। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ওই তিনজনকে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়

পুলিশ। পরে পুলিশ ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রেপ্তার তিন জনের মধ্যে নোমান রেজা বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিমানবন্দর থানা শাখার সদস্য সচিব, তানজিল যুগ্ম সদস্য সচিব আর ফারিয়া আক্তার তমা গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, যাকে তমা ফারিয়া নামে চেনেন সবাই।

গত বছর বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া উত্তরার একাধিক লোকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে পুঁজি করে চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম করে আসা তমা ফারিয়া ওই আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন না। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে আন্দোলনে সফলতা এলে তিনি বিজয়ের দিন বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে দেন। তার বাবা স্বপন তালুকদার উত্তরার পশ্চিম থানা ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। তাদের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। সরকার পতনের পর বাবা আত্মগোপনে চলে গেলেও মেয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেত্রী সেজে নানা অপকর্ম শুরু করেন। গত আগস্টে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিএনপি নেতা (পদ স্থগিত) ফজলুর রহমানের বাসার সামনে মব সৃষ্টি করে আলোচনায় আসেন এই তমা ফারিয়া। তখন তিনি বর্ষিয়ান ওই নেতার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেন ও অশ্লীল প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

ব্যবসায়ীর বাসায় চাঁদাবাজি করে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানবন্দর থানার একটি কক্ষে বসে আছেন নোমান রেজা, তমা ফারিয়া ও তানজিল। তাদের মধ্যে নোমান ও তানজিল সিগারেট টানছিলেন এবং মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। তমা চা পান করছিলেন। হাস্যোজ্জ্বল নোমান মোবাইল ফোনে কাউকে থানায় অবস্থানের বিষয়ে জানাচ্ছিলেন। তিনি বলছিলেন, ‘…ওসি আমাদের বিপদে ফেলার ধান্দায় কি না, এখন সন্দেহ ওদিকেই যাইতেছে। তাকে নাকি কমিশনার প্রেসারাইজ করতেছে।’ পরক্ষণেই বলেন, ‘না, আমাগোরে হাজতে রাখে নাই। ভালো ব্রেকফাস্ট-ট্রেকফাস্ট আইন্যা খাওয়ালো।’ ওই ফাঁকে তমা ফারিয়া বলতে থাকেন, ‘সকালে নাশতা করছি পরোটা, ডিম ডাল আর ভাজি, আর এখন চা।’ এর পরই নোমান বলেন, ‘পশ্চিম থানার ওসি আর এয়ারপোর্টের ওসি ব্যাচমেট। সবাই জানে নোমান…।’ উচ্চস্বরে হাসতে হাসতে বলেন, ‘আমি বলছিলাম, আমারে সেলে রাখেন, তখন বলে আরে নাহ, এ কেমনে হয়!’

ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে থানা হেফাজতে আসামিদের মোবাইল ফোন ব্যবহার আর থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক প্লেসে ধূমপান করা নিয়ে নানা সমালোচনা শুরু হয়েছে। চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের ‘জামাই আদর’ নিয়ে নানা কথা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে বিমানবন্দর থানার ওসি তাসলিমা আক্তারকে ফোন দেওয়া হলে তিনি সরকারি সফরে বিদেশে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে ওসির দায়িত্বে থাকা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ভিডিওটি তিনি দেখেছেন। এ নিয়ে সমালোচনার কথাও শুনেছেন। তবে ঘটনাটি ভিন্ন ছিল।

ওই আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযানের বিবরণ দিয়ে পরিদর্শক বলেন, পশ্চিম থানায় মামলা হলেও মূলত বিমানবন্দর থানার পুলিশও গ্রেপ্তার অভিযানে যায়। ওই তিন আসামিকে আটক করে কর্মকর্তাদের কাজের একটি কক্ষে রাখা হয়। উদ্দেশ্য ছিল তাদের হাজতে না ঢুকিয়ে কৌশলে চাঁদাবাজি করে নেওয়া টাকাগুলোর অবস্থান জেনে তা উদ্ধার করা। কৌশলের অংশ হিসেবেই ওই আসামিদের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই সুযোগ কাজেও লাগে। ওই রাতেই চাঁদাবাজির সাড়ে ৫ লাখ টাকা থেকে চার লাখ ৩০ হাজার টাকা আসামিদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী উদ্ধারও করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই তিন আসামিকে শুক্রবার আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে সাধারণত আসামিদের কাঠগড়ায় তোলা হলেও ওইদিন ওই তিন আসামিকে কাঠগড়ায় নেওয়া হয়নি। তাদের কোর্ট হাজতে রেখেই শুনানি হয়।

এদিকে ফারিয়া তমার বিষয়ে তার পরিবারের একজন জানান, তমার বাবা যুবলীগের ওয়ার্ড নেতা, এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু মেয়েটা বখে গেছে। এজন্য ওর বাবা তাকে অনেক আগেই বাসা থেকে বের করে দিয়েছে। সর্বশেষ বিএনপির একজন নেতার বাসার সামনে গিয়ে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেওয়ার পর ভাইরাল হলে পরিবারের অন্য সদস্যরাও তাকে এড়িয়ে চলেন।

তিনি বলেন, কয়েক মাস ধরে তমা মূলত আগ্রাসী হয়ে উঠেছিল। বয়স কম হওয়ায় কেউ কেউ হয়তো তাকে ব্যবহার করে নানা অপকর্ম করাচ্ছিল।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।