জুয়েল রানা মধুপুর প্রতিনিধি
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনের বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আজাদ। গতকাল শনিবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এ দাবি করেন।
কর্নেল আজাদ বলেন, “গত ১১ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামীল শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আমাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ওই চিঠিতে অভিযোগ আনা হয়েছে যে আমি নৌকার প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছি, আয়না ঘরের মাস্টারমাইন্ড এবং বহিষ্কৃত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের ব্যবসায়ী অংশীদার।
এছাড়া দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগও আনা হয়েছে। বহিষ্কারের পাশাপাশি নির্দেশ দেয়া হয়েছে, আমার সঙ্গে কোনো নেতাকর্মী যোগাযোগ রাখলে তার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। অথচ আমি এসব বিষয়ে সম্পূর্ণ নির্দোষ।”
তিনি দাবি করেন, “আমার পরিবার জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বড় ভাই আশরাফুল ইসলাম মাসুদ উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং দুইবার ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আমার চাচা মরহুম গোলাম মোস্তফাও বিএনপি’র সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বুকে ধারণ করে বিএনপি পরিবারের সন্তান হিসেবে বেড়ে উঠেছি।”
নিজের কর্মজীবন সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি সেনাবাহিনীতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে চাকরি করেছি। বিএনপি পরিবারের সন্তান হওয়ায় আমাকে পদোন্নতি দেয়া হয়নি, বরং বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এরপর আমি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় যুক্ত হই এবং এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিই।
যুব সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা, অসহায়দের বাসস্থান নির্মাণ, টিউবওয়েল ও ল্যাট্রিন স্থাপন, পাহাড়ি অঞ্চলে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণসহ উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। এসব কারণে এলাকার মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছি।”
তিনি অভিযোগ করেন, “আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কিছু প্রতিপক্ষ ষড়যন্ত্র করছে। আমাকে নির্বাচনের লড়াই থেকে দূরে সরিয়ে দিতেই এই বহিষ্কার ষড়যন্ত্র। জেলা কমিটির কোনো নেতা স্থায়ী বহিষ্কার করার এখতিয়ার রাখেন না। তারা কেবল কেন্দ্রকে সুপারিশ করতে পারেন। অথচ আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেয়া হয়নি।”
কর্নেল আজাদ আরও বলেন, “পত্রে উল্লেখিত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমার কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণ আছে, যা আমি ফেসবুকে প্রকাশ করেছি। স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধনে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমি দ্রুতই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করবো এবং বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।