মোঃ রবিউল আলম, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা নগরীর কালীয়াজুড়ি এলাকায় মা ও মেয়েকে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার সাথে জড়িত মূল আসামী মোঃ মোবারক হোসেন (২৯) কে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
তার কাছ থেকে নিহতদের বাসা থেকে চুরি হওয়া চারটি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ ও চার্জার উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ৩নং ওয়ার্ডের কালীয়াজুড়ি এলাকার ভাড়া বাসায় ভিকটিম তাহমিনা বেগম ফাতেমা (৫২) এবং তার মেয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন রিনথি (২৩)-এর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত ফাতেমার বড় ছেলে তাজুল ইসলাম প্রথমে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের অস্বাভাবিক অবস্থায় পান। পরে ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম এসে নিশ্চিত হন তারা দু’জনই মারা গেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহত ফাতেমার বড় ছেলে বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৩৬, ধারা-১০৯/৩০২/৩৪ পেনাল কোড)। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু করে পুলিশ ও সিআইডি।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের বিশেষ টিম তথ্য-প্রযুক্তি ও কৌশল ব্যবহার করে গত ৮ সেপ্টেম্বর দেবিদ্বারের কাবিলপুর গ্রামের মোবারক হোসেনকে গ্রেফতার করে। সে হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোবারক জানায়, ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে নিহত পরিবারের সাথে তার পরিচয় হয়। ঘটনার দিন সকালে সে বাসায় গিয়ে প্রথমে রিনথিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে।
এ সময় মা তাহমিনা বেগম ঘটনাটি দেখে ফেললে তাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে। পরে রিনথিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে বাসা থেকে চারটি মোবাইল ও একটি ল্যাপটপ চুরি করে পালিয়ে যায়।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, “আসামীকে গ্রেফতারের জন্য তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। পুলিশের পেশাদারিত্ব ও দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আসামীকে স্বল্প সময়ের মধ্যেই গ্রেফতার সম্ভব হয়েছে।”