মোঃ হাসনাইন আহম্মেদ, ভোলা:
ভোলা সদর উপজেলার চরনোয়াবাদ এলাকায় এক নৃশংস হামলায় নিহত হয়েছেন মাওলানা আমিনুল হক নোমানী। তিনি ভোলা দারুল হাদিস কামিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক, প্রখ্যাত মুফাসসিরে কোরআন এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ভোলা সদর উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
৬ সেপ্টেম্বর শনিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তার নিজ বাসায় একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। স্থানীয়রা মাওলানাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মাওলানার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ভোলা সদর হাসপাতালে বিভিন্ন ইসলামি দলের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের জনগণ জড়ো হন। পরে তারা শহরে একটি ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন, যা ভোলা শহরের প্রধান সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে। বিক্ষোভকারীরা আগামীকাল রবিবার জেলায় হরতালের ডাক দেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মাওলানার পরিবার জানিয়েছে, হামলার সময় তিনি বাসায় একা ছিলেন। তার স্ত্রী তখন বাবার বাড়িতে ছিলেন। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকে তাকে হামলা চালায় এবং হত্যা করে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সংস্থা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। তারা জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, নিহত মাওলানার মরদেহ এখনো ভোলা সদর হাসপাতালে রয়েছে। সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে এবং পরদিন পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পুরো ভোলা জেলায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও স্থানীয় জনগণ দ্রুত বিচার এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন। প্রশাসনের ওপর রয়েছে ব্যাপক চাপ তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করার।