মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
দেশের প্রথম আট লেনবিশিষ্ট আধুনিক সড়ক ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে চালু হয়েছিল মানুষের স্বপ্ন পূরণের জন্য। রাজধানী থেকে পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণাঞ্চলে দ্রুত যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন সুবিধা দিতে ২০২০ সালে যাত্রা শুরু হয় এ মহাসড়কের। কিন্তু সময় গড়ানোর সাথে সাথে স্বপ্নের এই সড়ক পরিণত হচ্ছে মৃত্যুফাঁদে। প্রতিদিনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি এখন সাধারণ মানুষের আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত তিন বছরে (জুলাই ২০২২ থেকে আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত) ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ঘটেছে ১ হাজার ৩০৩টি দুর্ঘটনা। এতে ১৮৩ জন নিহত এবং ১ হাজার ৯৮৬ জন আহত হয়েছেন।
শুধু গত এক বছরেই (জানুয়ারি ২০২৪ থেকে জানুয়ারি ২০২৫) এই সড়কে ৭২টি দুর্ঘটনায় ৫১ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।
২১–২২ আগস্ট ২০২৫: মাত্র ১৭ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি দুর্ঘটনায় মারা যান ৬ জন। মোটরসাইকেল চাপায় প্রাণ হারান তিন তরুণ, আহত হন আরও একজন। অন্যদিকে শ্রীনগরে একটি প্রাইভেটকার উল্টে গিয়ে নিহত হন আরও তিনজন।
২৭ ডিসেম্বর ২০২৪: ধলেশ্বরী টোলপ্লাজার কাছে ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহত হন ৫ জন এবং আহত হন অন্তত ১০ জন।
জানুয়ারি ২০২৫: সিরাজদিখান ও শ্রীনগরে আলাদা দুটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৪ জন।
পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের মতে, এক্সপ্রেসওয়ের দুর্ঘটনার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে—
অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া ওভারটেকিং
অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক।
ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল।
রাতের বেলায় পর্যাপ্ত আলো না থাকা
সড়কে সিসিটিভি ক্যামেরা ও কার্যকর নজরদারির অভাব।
খারাপ আবহাওয়ায় (কুয়াশা ও বৃষ্টি) সতর্কতা অবলম্বন না করা।
সড়ক পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে দেশের উন্নয়নের প্রতীক হলেও এটিকে নিরাপদ সড়ক বানাতে এখনই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। নইলে প্রতিদিন মানুষের জীবন ঝরে পড়বে এই মহাসড়কে।”
স্পিড লিমিট কঠোরভাবে প্রয়োগ করা।
সড়কে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো ও নিয়মিত টহল বাড়ানো।
লাইসেন্সবিহীন চালক ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করা।
টোলপ্লাজা ও দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় পর্যাপ্ত আলো ও সাইনবোর্ড স্থাপন করা
অবশ্যই জরুরি হয়ে পড়েছে।
ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে দেশের মানুষের জন্য স্বপ্নপূরণের রাস্তা হলেও প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি সেই স্বপ্নকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করছে। মানুষের আশা ছিল উন্নত যাতায়াতের, কিন্তু বাস্তবতা হলো প্রতিদিন মৃত্যুর মিছিল। যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে এক্সপ্রেসওয়ে শিগগিরই আরও ভয়ংকর মৃত্যুফাঁদে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।