মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি-
মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে স্কুল ছাত্রী ধর্ষন মামলায় ডিএনএ টেষ্টে আলামত পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ওই মামলায় ৪ মাস ১ দিন কারভোগের পর জামিন পেয়েছেন অভিযুক্ত দুবাই প্রবাসী যুবক শামীম দেওয়ান (২২)। চলতি বছরের ১২ এপিল জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার আউটশাহী ইউনিয়নের আউটশাহী মুসল্লিপাড়া গ্রামে সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রীকে ধর্ষনের ঘটনা ঘটে।
দু’দিন পর ১৪ এপ্রিল ছাত্রীর বাবা দুবাই প্রবাসী শামীমকে একমাত্র আসামী করে টঙ্গীবাড়ি থানায় ধর্ষন মামলা দায়ের করেন। একই দিন রাতে ওই প্রবাসীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তাকে আদালতে পাঠানো হলে জেল হাজতে প্রেরন করেন।
এদিকে, ঘটনার দিন ১৪ বছর বয়সী ওই ছাত্রী প্রাইভেট পড়ার জন্য আউটশাহী মুসল্লিপাড়া গ্রামে যাচ্ছিলো। যাওয়া সময় জোর করে ধরে নিয়ে ওই ছাত্রী দুবাই প্রবাসী শামীম ধর্ষন করে বলে অভিযোগ আনা হয়। ওই ছাত্রী তার নানা বাড়িতে বসবাস করে উপজেলার আউটশাহী রাধানাথ উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছিলো।
ওই ধর্ষন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হচ্ছেন টঙ্গীবাড়ি এসআই শেখ শহীদুল ইসলাম। তিনি জানান, মামলা রুজুর পর ডিএনএ টেষ্টোর জন্য ধর্ষনের শিকার স্কুল ছাত্রীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ওই নমুনা ঢাকার সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়।
এরপর সেখান থেকে ডিএনএ টেষ্টের প্রতিবেদন হাতে পেয়ে গত ১৩ আগষ্ট আদালতে তা দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। একই দিন শুনানী শেষে অভিযুক্ত শামীমের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক।
অন্যদিকে, গ্রেফতারের পর কারাগারে ছিলেন আউটশাহী মুসল্লিপাড়া গ্রামের শহীদ দেওয়ানের ছেলে অভিযুক্ত শামীম দেওয়ান। তিনি গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগষ্ট) আদালত থেকে জামিন পান। এরপর কারাগার থেকে মুক্ত হন।
জামিনে বের হয়ে শামীম দেওয়ান বলেন, গত এপ্রিল মাসের ৮ তারিখ আমি প্রবাস থেকে দেশে আসি। দেশে আসার পরে ১২ এপ্রিল আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে ২ জন ছেলে ও ১ জন মেয়ে অশ্লীল ভঙ্গিমায় হাটাহাটি করছিলো পরে আমরা কয়েকজন ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করি মেয়েটি তোমার কি হয়? পরে ছেলেটি বললো তার খালাতো ভাই হয়।
এরপর তাদের আমরা কিছু না বলেই ছেরে দেই। এর কিছুক্ষণ পরেই আমাদের কাছে খবর আসে ছেলেটা আমাদের বকাবকি করছে। কি কারনে বকাবকি করছে জিজ্ঞেস করলে ছেলেটি তর্কে জড়িয়ে যায়। এরপর এলাকার লোকজন আটকে রেখে গার্ডিয়ানের জিম্মায় দিয়ে দেয়।
সেই ক্ষোভ থেকেই মেয়েটি তার লোকজন দিয়ে আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছিলো। ওই রাতেই মেয়ের মামা আমার কাছে ৫ লক্ষ টাকা দাবী করে নইলে আমাকে ধর্ষণ মামলা দিয়ে হয়রানি করবে বলে জানায়। আমি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরদিন তারা আমার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দেয়।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ মিমাংসা করে দিবে বলে আমায় থানায় যেতে বলে, পরে আমি থানায় গেলে তারা আমাকে গ্রেফতার করে পরদিন কোর্টে প্রেরণ করে। এরপর মেয়ের মামা আবারো আমার মায়ের কাছে এসে বলে যদি টাকা না দেন তাহলে শামীম কে জেল থেকে বের করতে পারবেন না।
টাকা দিলে সব ক্লিয়ার হয়ে যাবে। এরপর আমার মা টাকা দিতে রাজি হয় এবং ১৩ লাখ টাকার স্ট্যাম্প করে। এরপর থেকে মেয়ের পরিবারের কেউ আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখেনি, এমনকি কোর্টেও মামলা উঠাতে যায়নি। এরপর ডিএনও পরিক্ষার রিপোর্ট ও পুলিশ তদন্তে আমার বিরুদ্ধে যেই অভিযোগ সেটি মিথ্যা প্রমানিত হওয়ায় আদালত আমাকে জামিন দেয়। আমি চার মাস একদিন জেল খাটলাম বিনা দোষে।
পক্ষান্তরে মামলার বাদী বলেন, ওই ঘটনায় আমরা কোন বিচার পাচ্ছি না। ওদের টাকা আছে। সব কিছুই কিনে নিছে। ডিএনএ টেস্ট পরীক্ষায় বিষয় জানতে চাইলে তিনি কিছুই বলতে পারেননি।