শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নেত্রকোনার হাওরে ফায়ার স্টেশনের ভবন হলেও চালু হয়নি সেবা কার্যক্রম

নূরুল আলম কামাল, নেত্রকোনা : প্রায় সময় হাওরাঞ্চলে অগ্নিকান্ড, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বিভিন্ন সময় মানুষের মৃত্যুও হয়। মাঝে মধ্যে নৌকা ডুবিতে আবার নিখোঁজও হয় মানুষ। নিখোঁজদের উদ্ধার করতে ময়মনসিংহ থেকে ডুবুরি দল আসে। হাওরবাসী এ থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকার নেত্রকোনার হাওর অঞ্চল খালিয়াজুরীতে ২০২৩ সালে নির্মাণ করে ফায়ার স্টেশন অফিস ভবন। মূল সড়ক […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৭ আগস্ট ২০২৫, ১৬:০৬

নূরুল আলম কামাল, নেত্রকোনা :

প্রায় সময় হাওরাঞ্চলে অগ্নিকান্ড, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বিভিন্ন সময় মানুষের মৃত্যুও হয়। মাঝে মধ্যে নৌকা ডুবিতে আবার নিখোঁজও হয় মানুষ। নিখোঁজদের উদ্ধার করতে ময়মনসিংহ থেকে ডুবুরি দল আসে। হাওরবাসী এ থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকার নেত্রকোনার হাওর অঞ্চল খালিয়াজুরীতে ২০২৩ সালে নির্মাণ করে ফায়ার স্টেশন অফিস ভবন।

মূল সড়ক থেকে স্টেশনে প্রবেশের জন্য ২শ মিটার রাস্তা পাকা না থাকায় চালু হচ্ছে না স্টেশনটি। এ কারণে দমকল বাহিনীর সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাওর পাড়ের মানুষ। তবে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত বিভাগ বলছেন, ভবন প্রস্তুত করে বারবার চিঠি দেওয়ার পরও ভবনটি বুঝে নিচ্ছেন না ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।

এতে ভবনের বিভিন্ন মালামাল চুরি ও ভেঙে ফেলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঠিকাদার। স্থানীয়রা বলছেন ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় সেখানে মাদকসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ সংগঠিত হয়। স্টেশনটি চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

জেলা বিভিন্ন দুর্ঘটনার তথ্য থেকে জানা গেছে, নেত্রকোনা জেলার মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজু হাওরজুড়ে যেন কান্নার শেষ নেই। ২০২০ সালের ৫ আগষ্ট মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী রাজালীকান্দা হাওরে ৪৮জন পর্যটক নিয়ে নৌকা ডুবে। স্থানীয়রা ৩০জনকে উদ্ধার করে।

কিন্তু এতে ১৮ জন মারা যায়। এর কয়েকদিন পর ১০সেপ্টেম্বর দুপুর বেলায় কলমাকান্দা হাওরে গোমাই নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবিতে ১২ জন মারা যান। সেদিন নিখোঁজ ১০জনকে স্থানীয়রা নানাভাবে উদ্ধার করেন। সেখানেও দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রাই উদ্ধার তৎপরতা চালান। হাওরপাড়ের মানুষেরা বলছেন, দুর্ঘটনা যত বড় বা ছোটই হয় সব গুলোতেই তাৎক্ষণিক স্থানীয়রাই যতটুকু সম্ভব সামাল দিতে পারেন। সেটাই হাওরবাসীর ভরসা। 

নেত্রকোনা গণপূর্ত প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার হাওর অঞ্চল খাইয়াজুরি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অনুমোদন হয়। এরপর জায়গা অধিগ্রহণ করার পর ২০১৯ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তর ৩ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে অফিস ভবন নির্মাণের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।

পরে এটির কাজ পায় নেত্রকোনার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এস এ এন্টারপ্রাইজ। কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদার নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করে ৩১ এপ্রিল ২০২০ সালে। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২১ সালে এপ্রিল মাসে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় দুইবার মেয়াদ বাড়ানো হয়। সেই সাথে নির্মাণ কাজের ব্যয় ৪৩ লাখ টাকা বেড়ে ৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা দাঁড়ায়।

নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা জেলার হাওর ১২টি নৌ দুর্ঘটনা, ৩১১ টি অগ্নিকান্ড, ৮টি সড়ক  ও ২৯টি অন্যান্য দুর্ঘটনাসহ মোট ৩৬০টি দুর্যোগের ঘটনা ঘটে। এতে ৫৪ জন মৃত্যু বরণ করেন। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ৪ কোটি ২৩ লাখ ৭২ হাজার টাকার।

হাওর উপজেলা খালিয়াজুরী সদরে  তিন বছর আগে তিন কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মাণ করা হয় ফায়ার স্টেশন। নেত্রকোনা-খালিয়াজুরী সড়ক থেকে স্টেশনে প্রবেশ করতে ২ মিটার রাস্তা রয়েছে। রাস্তাটি কাচা হওয়ায় স্টেশনটি চালু হচ্ছে না। 

নূরপুর বোয়ালী গ্রামের মো: হাবিবুল্লাহ বলেন, ২শ মিটার সংযোগ সড়ক পাকা না থাকায় ফায়ার স্টেশন চালু হচ্ছে না। স্টেশনটির জনবল আছে। তারা অন্যত্র ডেপুটেশনে পোস্টিং নিয়ে আছে। এলাকায় নৌ বা অগ্নিকাণ্ডের মত দুর্ঘটনা ঘটলে স্থানীয় লোকজনই একমাত্র ভরসা। তাছাড়া ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষেরও গাফিলতি রয়েছে। আমরা এলাকাবাসি চাচ্ছি অতিদ্রুত স্টেশনটি চালু করা হয়।

খালিয়াজুরী উপজেলা শহরের সোহান আহমেদ বলেন, নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলের মানুষদের সেবা দিতে ফায়ার স্টেশনটি নির্মাণ হলেও চালু হচ্ছে না। স্টেশনটি পড়ে থাকায় অবকাঠামোসহ যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। 

নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এস এ এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি আল আমিন বলেন, তিন বছর আগে খালিয়াজুরী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসের ভবনের কাজ শেষ করেছি। পি ডব্লিউ ডি কর্তৃপক্ষ সহ আমরা একাধিকবার ভবনটি হ্যান্ডওভার করার জন্য ফায়ার সার্ভিসকে বলেছি।

ফায়ার সার্ভিস কতৃপক্ষ ভিজিটও করেছে। কিন্তু তারা রাস্তার অজুহাত দেখিয়ে ভবনটি আর বুঝে নেয়নি। সেটি যদি ২০/৫০ হাজার টাকার বিষয় হতো তাহলে সেটাও সমাধান করতাম। কিন্তু ৫ আগস্টের পর ভবন থেকে অনেক মালামাল চুরি হয়ে গেছে। এবিষয়ে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এখন এর দায়ভার কে নিবে? তারপরও ভবনটি যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ বুঝে নিত তাহলে ক্ষতির পরিমাণটা আর বাড়তো না।

নেত্রকোনা জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারি পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, হাওরবাসীদের সেবা প্রদানের সব সরঞ্জামাদিসহ ফায়ার স্টেশনটি প্রস্তুত আছে। ২শ মিটার রাস্তা পাকা করা হলে দ্রুত সেবা দেয়া সম্ভব হবে। 

খালিয়াজুরীতে ফায়ার স্টেশনটি স্থাপন করা হয়েছে তাতে যেমন আমরা স্থলে কাজ করতে পারবো তেমনি বর্ষায় পানিতেও কাজ করতে পারবো। এখানে স্পীডবোট থাকবে। ডুবুরি দল আছে, ফায়ার ফাইটারও আছে। স্টেশনের ভবণটি প্রায় এক বছর ধরে কাজ সম্পন্ন হয়ে পড়ে আছে।

জনবল এবং গাড়ি পাম্পসহ সবকিছু চলে এসেছে। তবে ডুবুরিদের জন্য সরঞ্জামাধী আসেনি। মূল সড়ক থেকে স্টেশনে প্রবেশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ হলেই স্টেশনটি চালু হবে। 

তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে একটা রাস্তা করা হয়েছে। কিন্তু এটি কাঁচা। আমাদের গাড়িগুলো কাঁচা রাস্তায় চলতে পারেনা। রাস্তাটি পাকা হয়ে গেলে স্টেশনটি চালু করতে পারবো। রাস্তাটি দ্রুত পাকাকরণের ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

নেত্রকোনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারজান আনোয়ার বলেন, গণপূর্ত বিভাগের নির্ধারিত কাজ ২০২৩ সালে সম্পন্ন করা হয়েছে। ভবনটি হ্যান্ডওভারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৮বার চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারা ভবন বুঝে নিচ্ছেন না।

এতে ভবনের বিভিন্ন মালামাল চুরি সহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ঠিকাদার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। রাস্তাটি ব্যাপারে গণপূর্ত বিভাগের কিছু করার নেই। এটি পানি উন্নয়ন বোর্ড এর মাধ্যমে নির্মাণ করা যেতে পারে। তবে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের পরামর্শে গণপূর্ত বিভাগ থেকে রাস্তাটির নির্মাণের জন্য একটি ইস্টিমেট করে ফায়ার সার্ভিসকে দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস বলেন, খালিয়াজুরী ফায়ার সার্ভিসের অফিস ভবণ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ভবনটি হ্যান্ডওভার করতে চাচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসকে বলেছি এটি বুঝে নিতে। মূল সড়ক থেকে অফিসে যেতে রাস্তার সমস্যা ছিল।এটিও আমরা নির্মাণ করে দিয়েছি। এখন তারা পাকা করণের কথা বলছে। 

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।