গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের রক্তপাতের ঘটনা ঘটেছে। এবার শ্রীপুরে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেছে জুয়েল (২৫) নামের এক যুবকের। তিনি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের বাসিন্দা।
শুক্রবার (৯ আগস্ট) রাত ৩টার দিকে শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। পুলিশ ঘটনার পরপরই রাকিব ও রবিন নামে দুই যুবককে আটক করেছে।
শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল বারিক জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গভীর রাতে মাওনা উড়ালসেতুর নিচে একটি অস্থায়ী চায়ের দোকানের পাশে কয়েকজন যুবক ঘুমাচ্ছিলেন। চটের বিছানায় শোয়া নিয়ে নিহত জুয়েল ও আটক রাকিব-রবিনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।
একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় রাকিব সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে জুয়েলের বুকে আঘাত করে। রাকিবকে আটকাতে গেলে রবিনের হাত কেটে যায়।
স্থানীয়রা আহত জুয়েলকে প্রথমে মাওনা চৌরাস্তার একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়, যেখানে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওসি বারিক জানান, নিহত ও আটককৃতরা সবাই ভাসমান এবং মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
এর আগে, ৭ আগস্ট সন্ধ্যায় গাজীপুরে আলোচিত সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ড ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বাদশা মিয়া নামে এক ব্যক্তি চান্দনা চৌরাস্তা মোড়ে এক নারীর সঙ্গে বিবাদে জড়ান। ওই নারী একটি ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য বলে তদন্তে জানা গেছে।
এসময় তার পক্ষের একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাদশাকে আক্রমণ করে। ঘটনাস্থল থেকে ভিডিও ধারণ করছিলেন সাংবাদিক তুহিন। ভিডিও মুছে ফেলতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা তাকে মসজিদ মার্কেটের সামনে কুপিয়ে হত্যা করে।
ক্রমাগত এসব ঘটনায় গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। পুলিশ বলছে, দুই হত্যাকাণ্ডেরই তদন্ত জোরদার করা হয়েছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।