মজনুর রহমান আকাশ, মেহেরপুরঃ
মেহেরপুরের ২০টি ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে কৃষকদের জন্য স্থাপন করা কৃষি আবহাওয়া পূর্বাভাস তথ্য বোর্ডগুলো অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এর ফলে কৃষকরা তা থেকে কোনো সেবা পাচ্ছেন না। এগুলো সচল করার কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে। তবে কৃষি বিভাগ বলছে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গিয়েছে, মেহেরপুরের ২০টি ইউনিয়নেই রয়েছে কৃষি আবহাওয়া পূর্বাভাস তথ্য বোর্ড। কিন্তু কোনোটিই সচল নেই। অনেকটা জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে বোর্ডগুলো। অনেক জায়গায় সংখ্যা গণনার ঘুঁটিগুলো অকেজো অবস্থায় রয়েছে।
এটির তথ্য কখনো আপডেট করা হয়েছে কিনা তা বুঝার কোনো উপায় নেই। নিয়ম অনুযায়ী, আগে ও পরের তিন দিনের কৃষিভিত্তিক আবহাওয়ার নানা তথ্য এই বোর্ডে হালনাগাদ থাকার কথা। কিন্তু সেগুলো কোনো দিনই সচল ছিল না বলে দাবী স্থানীয় কৃষকদের।
মূলতঃ, কৃষি আবহাওয়া পূর্বাভাস তথ্য বোর্ডের মাধ্যমে গত তিন দিন আগের এবং পরবর্তী তিন দিনের মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়। এছাড়া আগামী তিনদিনের আবহাওয়াভিত্তিক কৃষিবার্তা ও বিপদ সংকেত কী হবে তা সম্পর্কেও জানা যায়।
কিন্তু বোর্ডগুলো অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকায় তা কৃষকদের কোনো কাজে আসছে না। এদিকে জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির মধ্যে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম সারিতে। তাই অতি দ্রুত এটি চালু করার জোর দাবি করেন কৃষকরা।
গাংনী উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের কৃষক জব্বার মিয়া বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে আবহাওয়ার তথ্য বোর্ড থাকলেও আজ পর্যন্ত আমরা এটা থেকে আবহাওয়ার কোনো তথ্য পাইনি। এটা চালু করলে আমাদের জন্য অনেক উপকার হয়। কিন্তু এটি স্থাপনের পর নানা কারনে কেউ কিছু লিখে না। কোন কৃষক বলতেও পারবে না এটি কেন স্থাপন করা হয়েছে।
সদর উপজেলার শ্যামপুরে গ্রামের আলমগীর হোসেন কৃষক বলেন, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে প্রতিবছর আমাদের ফসলের অনেক ক্ষতিসাধন হয়। আগাম তথ্য পেলে আমরা আগে থেকেই সর্তক হতে পারতাম। আমাদের এখন টেলিভিশন থেকে শুনে সর্তক থাকতে হয়। কিন্তু আমাদের তো সবসময় টেলিভিশনের সামনে থাকা সম্ভব না।
মুজিবনগর উপজেলার তারানগর গ্রামের কৃষক সোহেল রানা বলেন, আবহাওয়া যন্ত্র কি কাজে ব্যবহার হয়, এ বিষয়ে কৃষি অফিসের লোকজন আমাদের সাথে কখনো পরামর্শ করেনি। এমনকি কৃষি অফিসের আমার এলাকায় কে দায়িত্বে আছে তাকেও আমরা চিনি না। মোবাইল ফোন ও টেলিভিশনের মাধ্যমে আমরা আবহাওয়ার তথ্য নিয়ে থাকি।
মটমুড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমাদের এখানে স্বয়ংক্রিয় রেইন গজ মিটার ও সৌরবিদ্যুতের প্যানেল নেই শুধু তথ্য বোর্ডটাই রয়েছে। যা সবসময় বন্ধই থাকে। আমাদের কৃষি অফিসার যারা আছে বর্তমানে তারা সরেজমিনে গিয়ে কৃষকদের খোঁজ খবর নিয়ে থাকেন। কৃষকদের চাষাবাদ করতে কোনো সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকেন।
এ ব্যাপারে গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার ইমরান হোসেন বলেন, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকদের বিভিন্ন ফসল রক্ষায় আগাম তথ্য দিতে ২০১৮—১৯ অর্থবছরে সরকারের পক্ষ থেকে এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ অফিসেই কৃষি আবহাওয়া পূর্বাভাস তথ্য বোর্ড রয়েছে।
তবে এর কোনো কার্যক্রম নেই। কারণ এটি পরিচালনার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন হয় তা সরকার থেকে এখনো দেয়া শুরু হয়নি। ২০টি ইউনিয়নেই কৃষি আবহাওয়া পূর্বাভাস তথ্য বোর্ড চালু করা সম্ভব হলে আমাদের চাষীরা অনেক উপকৃত হবে বলে আমি মনে করি। কিছুদিন পূর্বে আমাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে।