নিজস্ব প্রতিনিধি :
রাজধানী ঢাকা কেরাণীগঞ্জ উপজেলায় ম্যাক্সওয়েল ওয়েস্টার্ন সিটি নামে একটি অবৈধ হাউজিং কোম্পানির সংখ্যালঘু সম্প্রদায় জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন।
রবিবার (৩ আগস্ট) ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটে সকাল ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করেন।ম্যাক্সওয়েল হোম এন্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেড অবৈধ ভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি দখলের অভিযোগ করে।
সংবাদ সম্মেলনে বলেন আমি হরি কমল বিশ্বাস, পিতা সুবল চন্দ্র বিশ্বাস। রাজধানী ঢাকা কেরাণীগঞ্জ উপজেলার তারানগর ইউনিয়নের নিমতলী গ্রামের (সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের) একজন সাধারণ কৃষক।
আমার পৈতৃক জমি যা আমার পূর্ব পুরুষদের রক্ত-ঘামে অর্জিত এবং আমার পরিবারের একমাত্র সম্পত্তি। ম্যাক্সওয়েল হোম এন্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেড নামের একটি ভূঁইফোড়, প্রতারক হাউজিং কোম্পানি আমার জমি অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে।
আমার কাছে বৈধ দলিলপত্র ও খাজনা পরিশোধের সমস্ত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও, কোম্পানিটি জাল কাগজপত্র দেখিয়ে আমার জমি দখল করে অবৈধভাবে হাউজিং প্রকল্প গড়ে তুলছে।
প্রশাসনের সব দফতরে রাজউক, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে থানা এবং জেলা প্রশাসন পর্যন্ত বিচারের জন্য গিয়েছি কিন্তু কোনো সুরাহা পাইনি।
বিভিন্ন সময় মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমার সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নিয়েছে। সম্পত্তির ন্যায্য মূল্য আমি এখনও পর্যন্ত পাইনি, আর সেই পাওনা আদায়ের জন্য আমি দীর্ঘদিন ধরে ম্যাক্সওয়েল হোমস এন্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেড কোম্পানির পিছনে ঘুরছি।
এছাড়াও আমার আরও কিছু সম্পত্তি ম্যাক্সওয়েল কোম্পানি বেদখল করে রেখেছে এবং আমাকে ভোগদখল করতে বাধা দিচ্ছে। আমি প্রতিবাদ করায় আমার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
ইতিপূর্বে আমার প্রতিবন্ধী ভাই কৃষ্ণ কমল বিশ্বাস (বোবা) এর কাছ থেকেও প্রতারণার মাধ্যমে সমস্ত সম্পত্তি কোর্টের অনুমতি ছাড়া নিজেদের নামে লিখিয়ে নিয়েছে ম্যাক্সওয়েল কোম্পানি।
আজ আমার পরিবার অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। আমি ভয়ে-আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি, কারণ প্রভাবশালী কোম্পানি বিভিন্ন ভাবে আমার ক্ষতির করার হুমকি দিচ্ছে।
এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, ভূমি উপদেষ্টা, রাজউক চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি আমার পৈতৃক জমি আমাকে ফিরিয়ে দিন এবং ম্যাক্সওয়েল হোমস এন্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেড-এর অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
এলাকার বহু মানুষের জমি জোরপূর্বক দখল ও বালু দিয়ে ভরাট করা। একই জমি একাধিক ক্রেতাগণ এর কাছে বিক্রি করে প্রতারণা করা। রাজউক, গণপূর্ত এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সহ সরকারি প্রতিষ্ঠান গুলো থেকে কোন অনুমোদন ছাড়াই অবৈধ হাউজিং পরিচালনা করা সহ একের পর এক অনিয়ম করে যাচ্ছে।
সরকারি দুই একজন কর্মকর্তা এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের কিছু স্বার্থান্বেষী শিক্ষক নামে বেনামে ম্যাক্সওয়েল কোম্পানির এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আমি দেশের আইন ও ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা রাখি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিসাবে আমার আর কোনো আশ্রয় নেই। আমি আমার ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে চাই এবং আর যেন কোন গ্রাহক এবং স্থানীয় জমির মালিকগণ ম্যাক্সওয়েল কোম্পানি দ্বারা প্রতারণা এবং জুলুমের শিকার না হয় সেই লক্ষ্যে এই অবৈধ হাউজিং (ম্যাক্সওয়েল ওয়েস্টার্ন সিটি) অনতিবিলম্বে বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, রাজউক এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।