চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের চার নেতাকে আদালতে তোলা হলে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রোববার বিকেলে ঢাকা মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী ও উপস্থিত সাধারণ মানুষেরা চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
বিকেল ৪টার দিকে পুলিশের একটি গাড়িতে করে আদালতে আনা হয় কেন্দ্রীয় নেতা আবদুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান ওরফে রিয়াদ, ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন মুন্না, সদস্য সাকাদাউন সিয়াম ও সাদমান সাদাবকে। গাড়ি থেকে নামার পরই রাজ্জাক মুখ ঢাকার চেষ্টা করলে উপস্থিত আইনজীবীরা চিৎকার করে বলেন, “মুখ ঢেকে রাখিস কেন? চেহারা দেখাতে পারিস না?” কেউ কেউ ‘চাঁদাবাজ’ স্লোগান দিয়ে মারধরের চেষ্টা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, অভিযুক্তরা শুধু টাকার জন্য নয়, জনগণের আন্দোলনের ব্যানার ব্যবহার করে ‘জুলাই চেতনা’কে কলঙ্কিত করেছে। তারা সঙ্ঘবদ্ধভাবে অভিজাত এলাকায় ধনাঢ্য ব্যক্তিদের টার্গেট করে ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করেছে। এদের কর্মকাণ্ড একটি বড় চক্রের অংশ বলে মনে করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
গুলশান থানার পরিদর্শক জানান, গত ১৭ জুলাই অভিযুক্তরা সাবেক এমপি শাম্মী আহমেদের স্বামীর কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে, পরে ১০ লাখ আদায় করে। এর কিছুদিন পর তারা আবার বাকি টাকা নিতে গেলে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
প্রায় ৪৫ মিনিটের শুনানি শেষে বিচারক রাজ্জাকসহ চারজনের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায় এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে।