কুমিল্লার মুরাদনগরে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ১৩ নেতা-কর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। থানায় হামলা ও ছাত্র সমন্বয়ক ওবায়দুল হকের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আবেদা খাতুন।
গত ২৫ মার্চের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কসহ মোট ৩২ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাত আরও ৭০-৮০ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে কয়েকজন আগে গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্ত ছিলেন, বাকিরা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে আদালতে হাজির হন। তবে জামিন না পেয়ে এদিন ১৩ জনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
এদিকে একই সময়, আওয়ামী লীগ নেতা ও নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ইকবাল বাহারকে থানা থেকে মুক্ত করে আনেন আওয়ামীপন্থী উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ, এমন অভিযোগ করেছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, “আসিফ মাহমুদ একজন চিহ্নিত ক্ষমতার অপব্যবহারকারী। তিনি পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে কারাগারে পাঠাচ্ছেন। আর আওয়ামী লীগের অপরাধীদের থানা থেকেই ছাড়িয়ে আনছেন।”
জামিন না পেয়ে জেলহাজতে নেওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের বিএনপি সভাপতি রুহুল আমিন তুহিন ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হেলাল উদ্দিন। হেলাল উদ্দিনকে পুলিশি প্রহারে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ঘটনায় মুরাদনগর জুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে। নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “অত্যাচার বন্ধ না হলে আন্দোলন শুরু হবে মুরাদনগর থেকে, শেষ হবে ঢাকায়।”