সেলিম রেজা, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
অর্থ-সম্পদ নেই। প্রতি মাসে যে ভাতা পাই, তা দিয়ে বাড়ির খরচ আর ঋণ পরিশোধ করি। নিজের চিকিৎসা আর ওষুধপত্র কেনা হয় না। এখন চোখে ঝাঁপসা দেখি। কানেও ঠিকমতো শুনতে পারি না।
এভাবে আর কত দিন বিছানায় শুয়ে বসে থাকব। মৃত্যুর আগে একটু ভালো থাকতে চাই।’ কথাগুলো বলছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছাত্তার সাদেক। দীর্ঘ দিন ধরে অর্থাভাবে তার চিকিৎসা হচ্ছে না।
বগুড়ার শেরপুর উপজেলা গাড়িদহ ইউনিয়নের রণবীরবালা গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছাত্তার সাদেক (৭৮) এর বসবাস। তার বাবার নাম সমতুল্লাহ সোনার। নানা রোগে জরাজীর্ণ শরীর।
তাকে দেখভাল করার মত এক স্ত্রী ছাড়া কোন সন্তান-সন্ততিও কাছে নেই। সরকার থেকে প্রতিমাসে যে ভাতা পান তা দিয়ে চিকিৎসা করাতে পারেন না।
বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর। একাত্তরে দেশ মাতৃকার টানে অংশ নিয়েছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। এখন জীবনের শেষপ্রান্তে এসে বড়ই অসহায় হয়ে পড়েছেন।
নানান রোগে আক্রান্ত হলেও অর্থাভাবে তার চিকিৎসা করাতে পারছে না পরিবার। দীর্ঘ কর্মময় জীবনে নিজের জন্য কিছুই করতে পারেননি এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। এখন তার জীবন চলছে ধুঁকে ধুঁকে।
পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের এক সময়ের ডাকসাইটে নেতাও। সারাজীবন শ্রমিকদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। সামান্য আয়ে তুষ্ট আব্দুস সাত্তার সাদেক সবার কাছে শ্রদ্ধা ও সম্মান পেয়েছেন। কিন্তু এখন তিনি অসহায় জীবনযাপন করছেন।
পরিবারের লোকজন বলছেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছাত্তার সাদেক ঠিক মত হাঁটাচলাও করতে পারেন না। এখন চিকিৎসার অভাবে দিনের পর দিন বিছানায় শুয়ে দিন কাটছে। শয্যাশয়ী আব্দুস ছাত্তার সাদেক এখন নিজের করুণ দশার কথা ভেবে প্রতিনিয়ত চোখের পানি ফেলছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছাত্তার সাদেক বলেন, দেশের মানুষের ওপর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নির্মম অত্যাচার সহ্য করতে পারিনি। মাতৃভূমির টানে জীবনের মায়া ভুলে মুক্তিযুদ্ধ করেছি।
যুদ্ধ করেছি একটি স্বাধীন দেশ ও শোষণ, বৈষম্য, বঞ্ছনার হাত থেকে মুক্তির জন্য। কোনো কিছুর আশায় মুক্তিযুদ্ধ করিনি।
তিনি বলেন, প্রতি মাসে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সম্মানী ভাতা পাচ্ছি। কিন্তু এই ভাতা দিয়ে তো চিকিৎসা হচ্ছে না। সংসার খরচ আর ধারদেনা পরিশোধ করতেই সব টাকা শেষ হয়ে যায়।
কেউ তো আর বেশি করে ঋণও দেয় না। আমারও তো মন চায়, আরও কিছু দিন বাঁচতে। কিন্তু পরিবারের লোকজন তো আমার চিকিৎসা করাতে পারছে না।
বগুড়ার শেরপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছাত্তার সাদেক (মুক্তিযোদ্ধা নম্বর ০১১০০০০৩৩৬০)। এক স্ত্রী ছাড়া তাকে দেখারও কেউ নেই। এজন্য তিনি তার সুচিকিৎসার জন্য সরকারসহ সামর্থ্যবানদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন।