বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণের উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। থেমে থেমে বৃষ্টি ও দমকা বাতাস বইছে।
এদিকে এসব অঞ্চলসংলগ্ন নদ-নদী ও সাগর উত্তাল রয়েছে। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এতে তলিয়ে গেছে নদী ও সাগরের তীরবর্তী বাড়ি-ঘর, দোকানপাট, ফসলি জমি, মাছের ঘের, এবং ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবন-যাপন।
অন্যদিকে জোয়ারের পানিতে গলাচিপার রামনাবাদ নদীর ফেরির গ্যাংওয়ে তলিয়ে যাওয়ার ফলে ব্যাহত হয়েছে যান-বাহন চলাচল। জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ার ফলে কয়েক ঘণ্টা ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। এতে ফেরির দুই পাড়ে মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
নিম্নচাপের প্রভাবে নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ার ফলে গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, দশমিনা ও বাউফল উপজেলার চরাঞ্চলে বসবাসরত মানুষরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এসব এলাকার নদী ও সাগরের তীরবর্তী চরগুলোর রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে।
পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিস থেকে জানানো হয়, নিম্নচাপটি পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ১০০ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। নিম্নচাপের প্রভাবে পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত হচ্ছে। নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। নিম্নচাপটি আগামীকাল দুপুরের পর উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে প্রথমে সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও পরে নিম্নচাপে পরিণত হয়ে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশের ২১.৩° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯.৬° (পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে।
এটি আজ (২৫ জুলাই, ২০২৫) সকাল ০৬ টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ২৬৫ কি.ম. পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ২৬৫ কি.মি. পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ১৩০ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১১০কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।
এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আজ (২৫ জুলাই, ২০২৫) বিকাল নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে দমকা/ ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কি.মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০কি.মি., যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কি. মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ০৩ (তিন) নম্বর (পুন:) ০৩ (তিন) নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
অমাবস্যা ও নিম্নচাপের কারণে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১-৩ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।