এম এম জসিম উদ্দিন
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার নরসিংহপুর ফেরিঘাটে ইজারা নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে আজ শুক্রবার সকাল থেকে ফেরি চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।
এতে করে ঘাট এলাকায় অন্তত দেড় শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাক, বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালক-যাত্রী সবাই পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
নরসিংহপুর ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফেরিঘাটের ইজারা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে সকাল থেকেই ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এর ফলে ঘাট এলাকায় দুই কিলোমিটার জুড়ে গাড়ির সারি তৈরি হয়েছে। যাত্রী ও চালকরা চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, শরীয়তপুর-চাঁদপুর রুটের এই গুরুত্বপূর্ণ ফেরিঘাটের ইজারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি মোমিন দিদার ও সখিপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাইদুল ইউসুফ জিসান বালার মধ্যে।
শুক্রবার সকালে ইজারা তোলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
জানতে চাইলে মাইদুল ইউসুফ জিসান বালা বলেন, “সরকার আমাকে এক বছরের জন্য ঘাটের ইজারা দিয়েছে। মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি।
মোমিন দিদার উচ্চ আদালত থেকে রায় পেয়েছেন বলে দাবি করলেও আমি এখনো কোনো কাগজ হাতে পাইনি। সে নিজের লোকজন নিয়ে এসে ঘাট দখল ও চাঁদাবাজি করছে, এটাই মূল সমস্যা।”
অন্যদিকে, মোমিন দিদার বলেন, “বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালত থেকে আমি ইজারাদার হিসেবে রায় পেয়েছি। এরপর আমার লোকজন ঘাটে গিয়ে দায়িত্ব পালনে নামে, কিন্তু জিসান বালা বাধা দিচ্ছেন এবং গাড়িগুলো ফেরত পাঠাচ্ছেন।”
এদিকে, ঘাটে আটকে পড়া খাদ্যপণ্যবাহী একটি ট্রাকের চালক তপন দাস বলেন, “ফেরি পার হতে না পেরে দুই কিলোমিটার লম্বা যানজটে আটকে আছি। খাদ্যপণ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে আছে। দ্রুত সমাধান চাই।”
ঘাট ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়।”
স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ফেরিঘাট সচল রাখতে প্রশাসনিক উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।