পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চিকনিকান্দি ইউনিয়নে গত ১৪ জুলাই সরকারি ভাবে বিনা মূল্যে দুস্থ ও সুবিধা বঞ্চিত মহিলাদের ২০২৩/২৪ অর্থ বছরের আওতায় জানুয়ারি ২০২৫ থেকে জুন পর্যন্ত মাসে ৩০ কেজি হারে ৬ মাসে ১৮০ কেজি চাল বিতরণ করা হয়।
বাংলাদেশ সরকারের ভিডব্লিউবি চক্রের খাদ্যশষ্য বিতরন প্যানেল চেয়ারম্যান ১ মো. নাসিরউদ্দিন এর মাধ্যমে শুরু হয়। এ সময় তিনি ও তার সহযোগী মো. ইছাহাক মোল্লা মিলে অসহায় ও দুস্থদের কাছ থেকে অবৈধ ও বেআইনি ভাবে ৩ শত টাকা করে উত্তোলন করেন।
বিষয়টি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জানতে পেরে এবং তথ্য ও প্রমান সহ তাদেরকে আটক করে গলাচিপা থানায় হস্তান্তর করেন।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মোহেবুল্লাহ বাদী হয়ে থানায় মামলা রুজু করেন।
তিনি তার অভিযোগে বলেন, ‘গলাচিপা উপজেলার চিকনিকান্দি ইউনিয়নের সুতাবাড়িয়া গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের রুসিয়া বেগম, জায়েদা বেগম ও সালমা বেগমসহ ৭২ জন নারীর কাছ থেকে ভিডব্লিউবি চক্রের খাদ্যশষ্য দেওয়ার কথা বলে ৩০০ টাকা করে আদায় করে।
কিন্তু গতকাল সোমবার দুপুরে চিকনিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণ শুরু হলে ভুক্তভোগী নারীরা তাদের কাছ থেকে নেয়া ৩০০ টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন ও তার সহযোগী ইসহাক টাকার কথা অস্বীকার করেন।
এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি সেনাবাহিনীর টহল গাড়িতে অবস্থান করা সেনাবাহিনীকে অবহিত করা হলে অভিযুক্তদের তারা আটক করে।’
এ ব্যাপারে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, “গতকাল চিকনিকান্দি ইউনিয়নে দুস্থ, অসহায়দের চাল বিতরণ প্রোগ্রাম চলতেছিল।
এ সময় কয়েকজন ভুক্তভোগী ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিনের কাছে গিয়ে তাদের পাওনা টাকা অর্থাৎ তাদেরকে কার্ড দিবে এই মর্মে ৩০০/ করে টাকা তোলে যা চাইতে গেলে সে অস্বীকার করে। তখন সেখানে একটি বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়।
ঠিক ঐ মুহূর্তে গলাচিপা সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ঐ এলাকায় ছিল এবং তখন তারা সেনাবাহিনীর কাছে সহয়তা চাইলে সেনাবাহিনী সেখানে উপস্থিত হয় এবং প্যানেল চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিনসহ তার সহযোগী মো: ইসহাককে আটক করে নিয়ে আসে।
পরে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সচিব মহিবুল্লাহ বাদী হয়ে গলাচিপা থানায় একটি এজাহার দাখিল করে।”
আসামীদেরকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।