দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার কাচিনীয়া বাজারে বিএনপির কেন্দ্রীয় ৩১ দফা কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় আয়োজিত এই সমাবেশে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে চরম বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, রড ও ইটপাটকেল নিয়ে ২৫ নেতাকর্মীকে আহত করেছে। আহতদের মধ্যে দিনাজপুর-৪ আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিএনপি নেতাদের বরাতে জানা যায়, সমাবেশের শেষ দিকে বিএনপির অপর গ্রুপের নেতা, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আখতারুজ্জামান মিয়া এবং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল আলম তুহিনের নেতৃত্বে সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়।
হামলাকারীরা মোটরসাইকেল ভাঙচুরসহ বাজারের দোকানপাটে লাঠিচার্জ করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে যায় এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে দেন।
ঘটনার পর সেনাবাহিনী ও খানসামা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজমুল হক জানান, সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে।
৪নং খামারপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশে এ ধরনের বর্বরোচিত হামলা গণতন্ত্রের প্রতি অপমান। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাদের বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি।’
ঘটনাটি খানসামার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে শত্রুতা মোকাবেলায় এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতাদের সতর্ক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।