সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্ত দিয়ে আবারও বাংলাদেশে পুশইনের ঘটনা ঘটিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার দুর্গাপুর বিওপির ৯২৫ নম্বর সীমান্ত মেইন পিলার এলাকা দিয়ে ভারতের ৭৫ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা চার শিশুসহ মোট ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করে।
পুশইনের পর আনুমানিক এক কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বানিয়াটারী এলাকা থেকে তাদের আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী এবং চারজন শিশু।
তারা দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন। ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করলে সীমান্তপথে তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
আটককৃতদের সবাই কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার বাসিন্দা। তাদের নাম- মন্টু রায়, তার স্ত্রী আর্চনা রানী, ছেলে পলাশ রায়, মেয়ে মিশু রানী, মহেন্দ্র চন্দ্র রায়ের মেয়ে ফুলরানী রায়, হরি কান্ত রায়, অনন্ত চন্দ্র বর্মনের ছেলে কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মন, হরিকান্ত বর্মনের মেয়ে সুরভী, হরিকার মেয়ে স্বপ্না বর্মন ও পল্লবী রায়।
বিজিবির লালমনিরহাট ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, পুশইন হওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করেছেন। তাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে তাদের পরিবারের লোকজনের কাছে তুলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতীয় বিএসএফের কাছে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানান বিজিবি অধিনায়ক। তবে এখন পর্যন্ত বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আকবর জানান, বিজিবির হাতে আটক হওয়া ১০ জনকে থানায় নিয়ে আসা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় আবারও এমন পুশইনের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।