কুমিল্লার মুরাদনগরে হিন্দু নারীকে ধর্ষণ এবং তার বিবস্ত্র ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রধান আসামি ফজর আলীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ জুন) দিবাগত রাতে জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী শুক্রবার (২৭ জুন) মুরাদনগর থানায় মামলা করেন। প্রধান অভিযুক্ত ফজর আলীকে রোববার (২৯ জুন) ভোরে ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভিডিও ধারণ ও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে চারজনকে মুরাদনগর থেকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন মোহাম্মদ আলী সুমন, রমজান আলী, মো. অনিক ও মো. আরিফ।
আটক মোহাম্মদ আলী সুমন রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তার নেতৃত্বেই ওই নারীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ। অন্য তিনজন ছাত্রলীগের সদস্য এবং সুমনের সহযোগী।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ দিন আগে ওই ২৫ বছর বয়সী হিন্দু নারী স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এর আগে তার মা টাকা ধার নেন ফজর আলীর কাছ থেকে। এ সূত্রে ফোন নম্বর পেয়ে ফজর আলী ফোনে তার সঙ্গে বারবার কথা বলে সম্পর্ক গড়ে তোলে।
গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাতে পরিবারের অন্যরা পূজায় গেলে বাড়িতে একা থাকা অবস্থায় ফজর আলী জোর করে ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে। ঘটনা দেখে ফেলে এক প্রতিবেশী, যার মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। পরে গ্রামবাসী ফজর আলীকে মারধর করে এবং ওই নারীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সারা দেশে নিন্দার ঝড় ওঠে এবং ঘটনার ন্যায়বিচার দাবি ওঠে।