জরাজীর্ণ অবস্থায় দীর্ঘদিনের পড়ে থাকা মরিচা যুক্ত রড ও আগাছার উপর দিয়ে চিলাহাটি রেলস্টেশনের নবনির্মিত ওয়াশ ফিটের ঢালাইয়ের কাজ চলছে।
প্রায় সাত মাস পূর্বে ঢালাই দেওয়ার জন্য রড বিছানো শেষ হলেও ঠিকাদারের লোকজন সাত মাস থেকে বেতন না পাওয়ায় কাজ বন্ধ রাখায় ঘাস জঙ্গল জন্মে আগাছা যুক্ত সহ রড গুলি ছিন্নভিন্ন হয়ে মরিচা অবস্থায় পড়ে আছে।
ওই অবস্থায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে সোহেল নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে অভিনব কায়দায় নির্মাণ কাজ শেষ করা হচ্ছে ।
গোপন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহিম নিজেই ঠিকাদার সেজে তার বিশ্বস্ত ব্যক্তি সোহেলকে দিয়ে ওয়াস ফিডের পড়ে থাকা অসমাপ্ত কাজ ঈদুল আযহার ছুটি চলাকালীন সময় ধামাচাপা দিয়ে তড়িঘড়ি নির্মাণ কাজ শেষ করে।
তবে প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহিম অস্বীকার করে বলেন, চিলাহাটি রেলওয়ে কাজের জন্য ম্যাক্স ও ক্যাশেন নামে দুইটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজ করে আসছে।
জানা গেছে, নীলফামারীর চিলাহাটি আধুনিকরন রেলস্টেশনে ৪০০ মিটার দৈর্ঘ্য ওয়াসফিট নির্মাণ কাজের জন্য ২১ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ক্যাসেল কোম্পানি জানুয়ারি ২০২৩ সালে নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
কাজের সময় প্রথমে ১ বছর পরবর্তীতে বৃদ্ধি করে ২ বছর সময় বৃদ্ধি করা হয়। এরই মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন থেকে তাদের কাজের বিল রেলওয়ে না দেওয়ায় তারা তাদের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সাত মাস থেকে দিতে পারেনি।
বেতন ভাতা না পেয়ে কর্মচারীরা পরিবার পরিজন নিয়ে অসহায় হয়ে পড়ে। নিরুপায় হয়ে কর্মচারীরা বেতন ভাতার দাবিতে কোম্পানির কাছে ক্ষোভ বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে। তারই অংশ হিসাবে গত সাত মাস থেকে চিলাহাটি ওয়াসফিটের অসমাপ্ত কাজ পরে থাকে।
অপর একটি সূত্র জানান, সেই অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে রেলওয়ের প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহিম তার এক অনুগত সোহেল নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে ঝাড় জঙ্গলের উপর মরিচা যুক্ত জোড়াজিন্ন রড দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ শেষ করে।
চিলাহাটি রেলস্টেশনে প্রকল্পের কাজ শুরু থেকে প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহিম স্টেশনের কাজ দেখতে আসলে তার সাথে প্রায় সময় সোহেল নামে ওই ব্যক্তিকে দেখা যেত।
সেই সোহেল এখন ক্যাসেল কোম্পানি অসমাপ্ত কাজ শেষ করছে। সোহেলের পিছনে পর্দার আড়ালে কে আছে তানিয়ে এলাকায় নানান জল্পনা কল্পনা চলছে।
প্রায় সাত মাস থেকে নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ক্যাচেল। নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকলেও রেলওয়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে আসছে। সঠিক তদারকির অভাবে শুরু থেকে ঠিকাদার গা ছেড়ে দিয়ে নামকাওয়াস্তে নির্মাণ কাজ করে আসছে।
ওয়াচ ফিট কাজ শুরুর পর দুই দুইবার চিলাহাটি রেলস্টেশনে জিআইবিআর পরিদর্শন করে গেছেন। তিনি পরিদর্শন কালে স্থানীয়রা নবনির্মিত আইকনিকভবনের ফাটল, ওয়াসফিটের পিলারের ফাটলের ভিডিও চিত্র তুলে ধরার পরও অদ্যবধি কোন প্রতিকার মেলেনি।
অপরদিকে ইতিপূর্ বিভিন্ন পত্রিকায় চিলাহাটি নবনির্মিত আইকনিক ভবনের ফাটল, ফাটল স্থানে টাইলস পরিবর্তন করে ধামাচাপা
ও ওয়াসফিটের পিলারের ফাটল সহ নিম্নমানের কাজের চিত্র তুলে ধরে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসেনি। ফলে একের পর এক নির্মাণ কাজ বেপরোয়া ভাবে চলে আসছে।
ক্যাসেল কোম্পানির প্রকল্প ম্যানেজার সালেমান হোসেন বলেন, কোম্পানি সাত মাস থেকে আমাদের বেতন ভাতা বন্ধ রাখায় আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে অতি কষ্টে জীবন যাপন কাটাচ্ছি। এজন্য আমরা দীর্ঘ সাত মাস থেকে কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি।
২৫ জুন বুধবার পুনরায় কাজ তদারকি করতে গেলে দেখা যায়- ওয়াসফিটের একটি ঢালাই কাজ আবারও ঘাসের উপরেই দেওয়া হচ্ছে।
এবং অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ চলতেছিল।এ ব্যাপারে কাজের সাথে জড়িত কর্মচারীর সাথে কথা বললে তিনি জানান পলিথিন আনতে বলছি না আনার কারণে এই এভাবে ঢালাই কাজ করছি।
এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, অসমাপ্ত কাজ গুলি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শেষ করছে। দীর্ঘদিন পরে থাকায় আগাছা গুলি পরিষ্কার করে ঢালাইয়ের কাজ চলছে। সেখানে দেখাশোনার জন্য আমার লোক রয়েছে। যদি কোন ভিডিও প্রমাণ থাকে তাহলে প্রয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে স্থানীয় সাংবাদিকরা বেশ কয়েকবার ভিডিও প্রমাণসহ নিউজ করার পরও কোন প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এভাবেই কি জোড়া তালি দিয়ে ভুলভাল বুঝিয়ে শেষ হবে চিলাহাটি রেলস্টেশনের ওয়াসফিটের এর কাজ?