হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পটুয়াখালী- ৩ ( গলাচিপা-দশমিনা ) আসনের রাজনীতি।
ইদুল আযহা’র পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ইউনিয়নে সভা সমাবেশ করেছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
তবে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদের রাজনীতি।
গতকাল সকালে গলাচিপা অফিসার্স ক্লাবে ছাত্র অধিকার পরিষদের নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভায় বক্তব্যকালে ভিপি নুর দাবি করেন, ছাত্র অধিকার পরিষদের জন্ম না হলে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান হতো না।
এ ছাড়া তিনি স্থানীয় গলাচিপা-বন্যাতলী সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বিএনপির এক ঠিকাদারকে উদ্দেশ করে বলেন, ঠিকমতো কাজ না করায় সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে।
তার এসব বক্তব্যের জের ধরেই রাজনৈতিক মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
চরবিশ্বাস ইউনিয়ন গণ অধিকার পরিষদের মিছিলে হামলার অভিযোগে বিএনপি নেতাকর্মীদের সমালোচনা করেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুর।
অপরদিকে বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার করায় গলাচিপা নিজ এলাকায় ভিপি নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে উপজেলা বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।
বৃহস্পতিবার উপজেলা বিএনপির সভাপতির কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পৌর মঞ্চে এসে মিছিলটি শেষ হয়।
গতকাল সভা শেষে গলাচিপা থেকে চরবিশ্বাস যাওয়ার সময়ে পথিমধ্যে গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীর উপর স্হানীয় বিএনপি নেতা-কর্মী কর্তৃক হামলা এবং বেশ কয়েকজনকে আহত করার অভিযোগ করেছে গণ অধিকার পরিষদ।
তাছাড়া গতকাল সন্ধ্যায় চরবিশ্বাস ইউনিয়ন বিএনপি’ র অফিস ভাঙ্গচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জন্য বিএনপি নেতাকর্মীরা গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের দায়ী করেন। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা যায়।
নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, গতরাতে বকুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন গণ অধিকার পরিষদের এক নেতার স্মরণসভা থেকে ফেরার পথে তাঁকে অবরুদ্ধ করেন স্থানীয় বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা। রাত পৌনে দশটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত তিনটার পরে যৌথবাহিনী ও গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে গলাচিপা নিয়ে আসা হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন স্থানীয় নেতা-কর্মীদের গণ অধিকার সভাপতিকে উদ্ধার করার জন্য প্রশাসনকে সহায়তা করার নির্দেশনা দেয়।
নুরুল হক নুর বলেন, গলাচিপা উপজেলার পাতাবুনিয়া বটতলা বাজারে বিএনপি নেতা হাসান মামুনের অনুসারীরা রাস্তায় গাছ ফেলে গুলতি,রড, রামদা নিয়ে আমাদের পথরোধ করেছে। তারা স্থানীয় কয়েকজনকে মারধর করে দুটি মোটরসাইকেলও ভাংচুর করেছে।
এ ঘটনাগুলোর পরিপ্রক্ষিতে গলাচিপা উপজেলায় চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজ থেকে ১৫ জুন সকাল আটটা পর্যন্ত গলাচিপা পৌরসভা ও এর আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, একই সময়ে দুইটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যে উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছির তা এই মুহূর্তে গলাচিপা আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আছে। ১৪৪ জারি করা হয়েছে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে। আমরা প্রত্যশা করবো সবাই যেন আইনের প্রতি সহনশীল থাকে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখবে।