সাইফুল ইসলাম, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
ঈদুল আজহার টানা ১০ দিনের ছুটির পঞ্চম দিনে পর্যটকের ঢলে মুখর হয়ে উঠেছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত।
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত একসাথে উপভোগ করা যায় এমন দুর্লভ সৌন্দর্যের টানে হাজারো ভ্রমণপিপাসু ভিড় জমিয়েছেন এই সৈকতে।
শুধু জিরো পয়েন্ট নয়, পর্যটকদের পদচারণায় মুখর গঙ্গামতি, ঝাউবাগান, লেম্বুর বন, শুটকি পল্লীসহ কুয়াকাটার প্রতিটি দর্শনীয় স্থান।
সৈকতের বালুকাবেলায় পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন কেউ, কেউবা ঢেউয়ের সঙ্গে খেলায় মেতেছেন। কেউ হাতে হাত ধরে হেঁটে যাচ্ছেন দীর্ঘ সৈকতের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।
ঈদের ভিড়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য।
হোটেল, মোটেল এবং রিসোর্টগুলোতে রুম বুকিংয়ের হিড়িক পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের ধারণক্ষমতা পূর্ণ হয়ে গেছে। ঈদের আনন্দে মানুষ ঘুরতে বেরিয়ে পড়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝেও ফিরে এসেছে উৎসবের আমেজ এবং ব্যস্ততা।
খাবার হোটেল, ফটোগ্রাফি, স্যুভেনির দোকান এবং ভাড়ার সামগ্রীর বিক্রিতেও এসেছে চাঙ্গাভাব। এতে করে কুয়াকাটাকেন্দ্রিক স্থানীয় অর্থনীতিও বেশ চাঙ্গা হয়েছে।
অপরদিকে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শান্তিপূর্ণ ও আনন্দময় ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে জোরদার করা হয়েছে টহল, নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ রিজিওনের পরিদর্শক (ইনচার্জ) তাপস চন্দ্র রায় বলেন, ঈদ উপলক্ষে আমরা পর্যটকদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছি। প্রত্যাশার চেয়েও বেশি মানুষ এসেছেন। সবাই যেন নিশ্চিন্তে সময় কাটাতে পারেন, সে লক্ষ্যে আমরা সতর্ক রয়েছি।
এই ভ্রমণপ্রবাহে দারুণ খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হোটেল-মোটেল মালিকরা। তাঁরা আশাবাদী, এমন ইতিবাচক পরিবেশ বজায় থাকলে কুয়াকাটা আগামীতেও পর্যটকদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠবে।