সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

সিরাজগঞ্জে বাসের হেলপার থেকে কোটি টাকার মালিক ইউপি চেয়ারম্যান

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউপির আওয়ামী লীগ মনোনীত দুই বারের চেয়ারম্যান নবীদুল ইসলাম। ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। দলের প্রভাব বিস্তার করে অল্প সময়ের ব্যবধানে ছিটকে চোর থেকে কিভাবে বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি, প্রভাব-পতিপত্তি, কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। এমনটাই জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তার সেই সাম্রাজ্য এখন দখলে নিয়েছে প্রতিপক্ষরা। জানা যায়, কিশোর বয়সেই নিষিদ্ধ চরমপন্থি […]

নিউজ ডেস্ক

০৫ নভেম্বর ২০২৪, ১৯:১৫

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউপির আওয়ামী লীগ মনোনীত দুই বারের চেয়ারম্যান নবীদুল ইসলাম। ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। দলের প্রভাব বিস্তার করে অল্প সময়ের ব্যবধানে ছিটকে চোর থেকে কিভাবে বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি, প্রভাব-পতিপত্তি, কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। এমনটাই জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

তার সেই সাম্রাজ্য এখন দখলে নিয়েছে প্রতিপক্ষরা।

জানা যায়, কিশোর বয়সেই নিষিদ্ধ চরমপন্থি দলের সঙ্গে দরিদ্র নবীদুলের সখ্যতা গড়ে উঠে। ১৯৯৮ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের আহ্বানে অন্ধকার জগৎ ছেড়ে তার পুরো বাহিনী নিয়ে নবীদুলও ভালো হওয়ার পণ করে। পরবর্তীতে ২০০১ সালে সয়দাবাদ ইউপির চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল হোসেন খুন হন।

নবীদুল ছিলেন ওই খুনের মামলার প্রধান আসামি। কিন্তু সাক্ষ্য প্রমাণের অভাবে সকল আসামি ওই মামলা থেকে খালাস পান। পরে ২০০৪ সালে বিএনপি সমর্থক নবীদুল যোগ দেন আওয়ামী লীগে। পদ পান ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের। সেই সঙ্গে চালিয়ে যেতেন ছিটকে চুরি ও ছোটখাটো অপরাধ।

এলাকাবাসী জানান, ২০০৭ সাল পর্যন্ত সে বাসে হেলপারি করেছে। ভেতরে ভেতরে নিজের অবস্থান শক্ত করতে থাকেন নবীদুল। ২০১০ সালে সয়দাবাদের মূলিবাড়িতে খালেদা জিয়ার জনসভাস্থলে ট্রেন পোড়ানোর ঘটনার পর নবীদুলের ভাগ্য খুলতে থাকে। এ ঘটনাকে পুঁজি করে মামলা থেকে বাঁচাতে এবং মামলায় ফাঁসাতে বিএনপি সমর্থিত কারিগর ও প্রামানিক সম্প্রদায়ের তালিকা করে বিশাল অর্থ বাণিজ্য করেছেন নবীদুল।

সেই সঙ্গে চালিয়ে যেতেন ছিটকে চুরি ও ছোটখাটো অপরাধ।

এলাকাবাসী জানান, ২০০৭ সাল পর্যন্ত সে বাসে হেলপারি করেছে। ভেতরে ভেতরে নিজের অবস্থান শক্ত করতে থাকেন নবীদুল। ২০১০ সালে সয়দাবাদের মূলিবাড়িতে খালেদা জিয়ার জনসভাস্থলে ট্রেন পোড়ানোর ঘটনার পর নবীদুলের ভাগ্য খুলতে থাকে। এ ঘটনাকে পুঁজি করে মামলা থেকে বাঁচাতে এবং মামলায় ফাঁসাতে বিএনপি সমর্থিত কারিগর ও প্রামানিক সম্প্রদায়ের তালিকা করে বিশাল অর্থ বাণিজ্য করেছেন নবীদুল।

অভিযোগ রয়েছে, পূর্বমোহনপুর চর থেকে অবৈধভাবে বালু বিক্রির কমিশন নিতেন তিনি। এছাড়াও পঞ্চসোনা ও গাছাবাড়ির বালুমহালও চলতো তার ইশারায়। বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষের জায়গায় মহাসড়কের মুলবাড়ির এলাকায় তার নেতৃত্বে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছিল ট্রাক লোড-আনলোড পয়েন্ট। এছাড়া আড়ারে চালাতেন মাদকের ব্যবসা। ২০১৫ সালে সদর থানা আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক বাঔতারার সাইফুল ইসলাম খুন হয়।

সে মামলা থেকে বাঁচাতে বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের কাছ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন নবীদুল। একই বছরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ পান তিনি। এ অবস্থায় ২০১৬ সালে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন নবীদুল। ২০১৮ সালে আবারও সাধারণ সম্পাদক হন তিনি।

সিরাজগঞ্জ-২ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কে. এম হোসেন আলী হাসানের আস্থাভাজন ছিলেন তিনি। এসব পোষ্ট-পদবি ও প্রভাব খাটিয়ে নবীদুল ২০টি ট্রাক কিনেছিলেন। প্রায় ৪০ লাখ টাকায় কেনা মাইক্রোবাসে ঘোরাফেরা করতেন। বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড়ের নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের শ্রমিক নিয়োগ, প্রতিষ্ঠানটির পুরাতন মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের টেন্ডার, শিল্পপার্ক ও ইকোনমিক জোনে মাটি ভরাটসহ এলাকার সকল ঠিকাদারি কাজই ছিল তারই নিয়ন্ত্রণে। এলাকায় অন্য কেউ ব্যবসা করতে চাইলে নবীদুলকে কমিশন দিতে হতো, নয়তো অংশীদার বানাতে হতো। মহাসড়কের পাশে মূলিবাড়ি এলাকায় ক্রয়কৃত সাড়ে ৪ শতক জায়গায় নির্মাণ করেছেন বিলাসবহুল ৫ তলা ভবন। পৈত্রিক ভিটায় রয়েছে ২ তলা বিশিষ্ট আরেকটি ভবন। নিজ গ্রাম মুলিবাড়ি, পূর্ব মোহনপুর, পঞ্চসোনা, জগতলা এলাকায় বেশ কিছু কৃষি-অকৃষি জমি থাকার কথা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

২০২০ সালে তার অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে অনুসন্ধানে দুদকও সেই সময় তৎপর হয়। কিন্তু অদৃশ্য ইশারায় ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যান নবীদুল। দলের ভেতরে বাইরে ব্যাপক সমালোচনা থাকার পরও ২০২১ সালে ইউপি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্ধীতায় আবারও চেয়ারম্যান হন। শোনা যায় দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এস. এম কামালের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকার কারণেই মনোনয়ন বাগিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি।

নবীদুল তার এলাকায় কোনো বিরোধীমত সহ্য করতে পারতেন না। তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু বিএনপি নেতাকর্মীকে মারধর এবং হত্যার অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, নিজ দলে তার মতের বিরোধীদের ওপরও চলতো অমানসিক নির্যাতন। যুবদল নেতা আকবর আলীকে গুলি করে হত্যা, বিএনপি নেতা শহীদকে মারধর, আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মজনু ও মৎস্যজীবী লীগ নেতা মোয়াজ্জেমের ওপর একাধিকবার হামলা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

গত ২ অক্টোবর এক স্মরণ সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অভিযোগ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সয়দাবাদ ও বাঔতারায় জাহাঙ্গির, বাবলু ও জবান নামের বিএনপির ৩ কর্মীকে মিথ্যা অভিযোগে ক্রসফায়ারের নামে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। নবীদুল চেয়ারম্যান নিজে গুলি করে যুবদল নেতা আকবর আলীকে হত্যা করেছে। গত ১৬টি বছর এ অঞ্চলের মানুষের ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালানো হয়েছিল।

এই এলাকায় বিএনপিকে কোনো মিছিল-মিটিং করতে দেওয়া হয়নি। এই নবীদুল আমাকে ও আমার স্ত্রী সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রুমানা মাহমুদকে হত্যা করার জন্য একাধিকবার আমাদের ওপর হামলা করেছিল। একজন ইউপি চেয়ারম্যান দলের ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। গড়েছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদ। নানা অপরাধ ও অপকর্মের কারণে সে এখন পলাতক। অপরাধী ও তার সহযোগীদের বিচার আগামীতে অবশ্যই হবে। এ অঞ্চলের নির্যাতিত মানুষ কাউকে ক্ষমা করবে না।’

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর নবীদুল আত্মগোপনে চলে যান। তার দুইটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। লুট করা হয়েছে খামারের গরু। তার নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যবসা বাণিজ্যসহ সকল কিছু এখন বিএনপির নেতাকর্মী ও প্রতিপক্ষরা দখলে নিয়েছেন। গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সিরাজগঞ্জ শহরে যুবদল ও ছাত্রদলের তিন নেতাকর্মী নিহতের মামলায় সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নবীদুলকেও আসামি করা হয়েছে। সবাই এখন আত্মগোপনে রয়েছেন। যে কারণে তাদের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

সারাদেশ

পূজা মন্ডপের পাশে মুসলিম শিশু ধ/র্ষ/ণ, পূজামণ্ডপের সহসভাপতি ভজেন্দ্র সরকার গ্রেফতার

পূজা চলাকালীন সময়ে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে থাকা অবস্থায় ভজেন্দ্র সরকার কৌশলে শিশুটিকে ডেকে নেয়। পরে জোরপূর্বক নিজ ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। কিছুক্ষণ পর শিশুটির বড়ভাই ও স্বজনরা গামছা দিয়ে মুখ বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে

নিউজ ডেস্ক

০২ অক্টোবর ২০২৫, ০০:৩২

গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানার সুরাবাড়ীতে পূজা মণ্ডপের পাশে আট বছরের এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ অভিযুক্ত ভজেন্দ্র সরকারকে গ্রেফতার করেছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে।

গ্রেফতার হওয়া ভজেন্দ্র সরকার (৫৫) আশ্রয়ণ প্রকল্প পূজামণ্ডপের সহসভাপতি এবং মেঘলাল সরকারের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, পূজা চলাকালীন সময়ে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে থাকা অবস্থায় ভজেন্দ্র সরকার কৌশলে শিশুটিকে ডেকে নেয়। পরে জোরপূর্বক নিজ ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। কিছুক্ষণ পর শিশুটির বড়ভাই ও স্বজনরা গামছা দিয়ে মুখ বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ভজেন্দ্র সরকারকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। খবর পেয়ে কাশিমপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। শিশুটির মা মোসা. ফাতেমা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং মামলাটি দ্রুত তদন্ত করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।

ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি এমন অপরাধে জড়ান, তবে তা সমাজে গভীর ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে।

সারাদেশ

আ’লীগ নেতাকে বের করে দেওয়ায় ,যুবদলের অফিসে হামলার অভিযোগ বিএনপির সম্পাদকের বিরুদ্ধে

নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনার সদর উপজেলার যুবদলের একটি অফিসে হামলার অভিযোগ ওঠেছে কামাল খান নামের এক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার লক্ষীগঞ্জ বাজারে ইউনিয়ন যুবদলের অফিসে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে ওইদিন বিকালে লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়নের এক আ’লীগ নেতাকে যুবদলের অফিস থেকে বের করে দেওয়ায়। বিষয়টি ওই নেতাকে জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে তার […]

আ’লীগ নেতাকে বের করে দেওয়ায় ,যুবদলের অফিসে হামলার অভিযোগ বিএনপির সম্পাদকের বিরুদ্ধে

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৯ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৩৩

নেত্রকোনা প্রতিনিধি :

নেত্রকোনার সদর উপজেলার যুবদলের একটি অফিসে হামলার অভিযোগ ওঠেছে কামাল খান নামের এক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার লক্ষীগঞ্জ বাজারে ইউনিয়ন যুবদলের অফিসে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এর আগে ওইদিন বিকালে লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়নের এক আ’লীগ নেতাকে যুবদলের অফিস থেকে বের করে দেওয়ায়। বিষয়টি ওই নেতাকে জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে তার লোকজন নিয়ে অফিসটিতে হামলা করে। পরে সন্ধ্যায় স্থানীয় বিএনপির লোকজন এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। 

ফুল উপজেলার লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়নের হাসামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তবে তার কোন পদ পদবী নেই। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে নেত্রকোনা সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল খানের ভাতিজার বউভাতের অনুষ্ঠান চলছিল। এ অনুষ্ঠানে আশপাশের এলাকা সহ উপজেলা সদরের বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজনকে দাওয়াত করা হয়। যথারীতি ওইদিন দুপুর থেকে আমন্ত্রিত লোকজন আসতে থাকেন।

আনন্দ ঘন পরিবেশে এলাকার যুবসমাজ আপ্যায়ন কাজ করেন। বিকালে পৌর সদরের তোফায়েল নামের এক ব্যক্তি দাওয়াত খেয়ে লক্ষীগঞ্জ বাজারের ইউনিয়ন যুবদলের অফিসে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সাথে বসেন। তখন ফুল মিয়া নামের এক ব্যক্তি যুবদলের অফিসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তোফায়েল বসতে বলেন।

ফুল মিয়া অফিসে বসার পর স্থানীয় এক যুবদল নেতা বিগত আওয়ামী লীগের সময়ে অত্যাচার নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তাকে তাড়িয়ে দেন। ফুল মিয়া বিষয়টি লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল খানের কাছে জানান। পরে কামাল বিষয়টি জানার পর যুবদলের অফিসে আসেন। তোফায়েল সহ উপস্থিত নেতৃবৃন্দ কামালকে ঘটনা খুলে বলেন এবং তাকে শান্ত করে বুঝিয়ে দেন। কামাল খান যুবদলের অফিস থেকে চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর তার লোকজন অফিসে হামলা ভাঙচুর করেন।

বিএনপি নেতা বাবুল মিয়া বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ফুল মিয়া দলের প্রভাব খাটিয়ে এলাকার লোকজনকে অত্যাচার নির্যাতন করেছে। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও জেলা বিএনপি’র নেতা শফিকুল কাদের সুজা ভাইয়ের উপরও সে হামলা করে।

তাকে যুবদলের অফিসে থেকে কিছু পোলাপান বখাঝখা করে তাড়িয়ে দেয়। পরে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তার লোকজন নিয়ে যুবদলের অফিসে হামলা ভাঙচুর করে। তবে আমরা যুবদলের লোকজনকে ঝামেলা করতে দেইনি। 

নেত্রকোনা পৌর শহরের কুরপাড়ের বাসিন্দা তোফায়েল মীর বলেন, আমি লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল ভাইয়ের ভাতিজার বিয়ের দাওয়াত খেয়ে ফেরার সময় যুবদলের অফিসে নেতাকর্মীদের দেখে বসি। কিছুক্ষণ পর একজন বয়স্ক লোককে বারান্দার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বসতে বলি।

আমি জানিনা তিনি আওয়ামী লীগ করতেন কিনা। পরে কিছু পোলাপান তার অত্যাচার নির্যাতনের কথা স্মরণ করিয়ে গালমন্দ করে অফিস থেকে চলে যেতে বলে। এরপর তিনি চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর কামাল ভাই যুবদলের অফিসে আসেন।

তাকে আমরা বিষয়টি বুঝিয়ে বলার পর তিনি চলে যান। কিন্তু দশ মিনিট পর তিনি তার লোকজন নিয়ে অফিসে এসে হামলা করেন। বিষয়টি দেখে হতবাক হয়েছি।

লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর আলম বলেন, ফুল মিয়া নামের একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে যুবদলের অফিস থেকে বের করে দেওয়ায় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল খান তার লোকজন নিয়ে অফিসে হামলা করেন।

দায়িত্বশীল কোন নেতা যদি আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন করে তা দুঃখজনক। আমি চাই সিনিয়র নেতৃবৃন্দ তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। যাতে আর কেউ পতিত আওয়ামী লীগের কাউকে পুনর্বাসন করতে না পারে।

লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক কামাল খান বলেন, আমার বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে অনেক দাওয়াতি মেহমান এসেছে। ফুল মিয়াও দাওয়াত খেতে আসে। তাকে প্রথমে আমাদের দলের ও অঙ্গ সংগঠনের কিছু লোকজন বাজারে মারপিট করে।

যেহেতু আমার বাড়িতে দাওয়াত খেতে এসেছে বিষয়টি আমি জেনে তাদের বলি কাজটা ঠিক হয়নি। পরে আরেক দফা তাকে মারপিট করা হয়। আমার চেম্বারের সিসি ক্যামেরা আছে প্রয়োজনে এখানে যা সংঘটিত হয়েছে এর সব তথ্য প্রমাণ ভিডিও ফুটেজে পাওয়া যাবে। আমার সুনাম নষ্ট করতে কিছু লোক পরিকল্পিত ভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা নিজেরাই ওই চেম্বারের চেয়ার ভাঙচুর করে একটা বাজে পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

তবে ফুল মিয়াকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

নেত্রকোনা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: কাজী শাহ্ নেওয়াজ বলেন, দলীয় অফিসে হামলা হয়েছে কিনা বিষয়টি জানিনা। তবে লক্ষীগঞ্জ একটি ঝামেলা হয়েছে শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

সারাদেশ

একই আসনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী হলেন আপন দুই ভাই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে দেখা দিয়েছে এক বিরল ও চমকপ্রদ পরিস্থিতি। এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী—দুই দলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আপন দুই ভাই। বড় ভাই আজিজুর রহমান বিএনপির হয়ে মাঠে, আর ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক লড়ছেন জামায়াতের মনোনয়ন নিয়ে। এতে স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল। […]

একই আসনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী হলেন আপন দুই ভাই

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ নভেম্বর ২০২৫, ০২:১৪

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে দেখা দিয়েছে এক বিরল ও চমকপ্রদ পরিস্থিতি। এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী—দুই দলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আপন দুই ভাই। বড় ভাই আজিজুর রহমান বিএনপির হয়ে মাঠে, আর ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক লড়ছেন জামায়াতের মনোনয়ন নিয়ে। এতে স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল।

সোমবার (৩ নভেম্বর) বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩৭টি আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন, যেখানে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে আজিজুর রহমানকে প্রার্থী করা হয়। অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছেন রৌমারী উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক। ফলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ‘ভাইয়ের বিপরীতে ভাই’ এই অনন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় ছিলেন মোস্তাক। তিনি স্থানীয় জামায়াতের একটি প্রভাবশালী মুখ হিসেবে সমর্থকদের নিয়ে সক্রিয় প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু বিএনপি থেকে তার বড় ভাইয়ের মনোনয়ন ঘোষণার পর নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দুই ভাইয়েরই এলাকায় জনপ্রিয়তা থাকায় ভোটের হিসাব আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

কুড়িগ্রাম-৪ আসনটি চিলমারী, রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৩৮ হাজার, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৮ হাজার এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার। এ আসন ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলেরই শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তাই এই পারিবারিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা জাতীয় রাজনীতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

স্থানীয় রাজনীতিকরা বলছেন, “রৌমারী-চিলমারীর ইতিহাসে এটাই প্রথমবার দুই ভাই একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এতে নির্বাচনী মাঠে এক ধরনের আবেগ ও প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।”

জামায়াত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, “আমার বড় ভাই প্রার্থী হয়েছেন, এতে কোনো সমস্যা নেই। জামায়াতের জনপ্রিয়তা এখন অনেক বেড়েছে। জনগণ পরিবর্তন চায়।”
অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী আজিজুর রহমান বলেন, “আমার ছোট ভাই একসময় বিএনপির রাজনীতি করত। এখন জামায়াতে গেছে, তবে জনগণ এখনও আমার সঙ্গেই আছে। আমি মাঠে নামলে সেই সমর্থন আরো শক্ত হবে।”

দুই ভাইয়ের এই লড়াই শুধু রাজনীতিতে নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভোটারদের মতে, এই নির্বাচনে রক্তের সম্পর্ক নয়, জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবে জনগণের ভালোবাসা ও রাজনৈতিক বিশ্বাস।