লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলসূতি সীমান্তে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণের সময় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শুক্রবার (২ মে) সন্ধ্যার কিছু আগে এই ঘটনা ঘটে।
আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—রহমতপুর গ্রামের গাটয়ারভিটা এলাকার মোস্তাফিজ ইসলামের ছেলে মাহফুজ ইসলাম ইমন (১৬), যিনি চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং তার মামা মো. সাজেদুল ইসলাম (২২), পিতা সাইফুল ইসলাম, যিনি বগুড়ার মহাস্থান এলাকার বাসিন্দা।
৬১ বিজিবির তিস্তা ব্যাটালিয়নের ধবলসূতি বিওপি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত মেইন পিলার ৮২৫/১-এস এর নিকটবর্তী চা বাগানে ভিডিও ধারণ করছিলেন ইমন ও সাজেদুল। এ সময় তারা অনিচ্ছাকৃতভাবে ভারতের সীমান্ত অতিক্রম করলে জলপাইগুড়ি জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএসএফ সদস্যরা তাদের আটক করে নিয়ে যায়। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে অবহিত করে।
বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার পরপরই বিএসএফের সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তারা আটকের বিষয়টি স্বীকার করেছে। ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে বলেও জানায় বিএসএফ। ঘটনার পরপরই ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে এবং রংপুর সেক্টর কমান্ডারের মাধ্যমে বিএসএফের জলপাইগুড়ি সেক্টরের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ শুরু হয়।
আটক দুই বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনতে রাতেই পতাকা বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে বলে বিজিবি সূত্র নিশ্চিত করেছে। পাটগ্রাম থানার ওসি আশরাফুজ্জামান সরকার গণমাধ্যমকে জানান, ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা দুই বাংলাদেশিকে আটক করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় চলছে।
এর আগে একই দিনে দুপুরে দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার ধর্মজৈন সীমান্ত এলাকায় ধান কাটার সময় দুই বাংলাদেশি কৃষককে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ। তখন স্থানীয় গ্রামবাসীরা প্রতিক্রিয়ায় দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করে বিজিবির হাতে হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে রাতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে আটককৃতদের বিনিময় সম্পন্ন হয়।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নাগরিকদের সচেতনতার অভাব, নজরদারির দুর্বলতা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার অভাবে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের জন্য সীমান্ত এলাকায় চলাচল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা, যৌথ টহল জোরদার এবং স্থানীয়দের সচেতন করে তোলার পাশাপাশি, সীমান্ত নিরাপত্তার কৌশলগত মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে অনুভূত হচ্ছে।