শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

বরিশালে চায়না ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল চাই: চিকিৎসা বঞ্চিত দক্ষিণাঞ্চলের এখনই সময়

স্বাস্থ্য সেবা একটি মৌলিক অধিকার। অথচ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল, বিশেষ করে বরিশাল, যুগ যুগ ধরে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত। যখন আমরা উন্নয়নের কথা বলি, তখন এর প্রতিটি শাখা—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, যোগাযোগ—সমভাবে বিবেচনায় আসা উচিত। অথচ বাস্তবচিত্র বলছে, দক্ষিণাঞ্চলের প্রতি সেই সমতা বরাবরই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। তাই সময় এসেছে এই অবহেলিত অঞ্চলের পক্ষে সুনির্দিষ্ট দাবি তোলার। সেই […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২০ এপ্রিল ২০২৫, ১৩:৩১

স্বাস্থ্য সেবা একটি মৌলিক অধিকার। অথচ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল, বিশেষ করে বরিশাল, যুগ যুগ ধরে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত। যখন আমরা উন্নয়নের কথা বলি, তখন এর প্রতিটি শাখা—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, যোগাযোগ—সমভাবে বিবেচনায় আসা উচিত।

অথচ বাস্তবচিত্র বলছে, দক্ষিণাঞ্চলের প্রতি সেই সমতা বরাবরই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। তাই সময় এসেছে এই অবহেলিত অঞ্চলের পক্ষে সুনির্দিষ্ট দাবি তোলার। সেই দাবির প্রথম সারিতে থাকা উচিত—বরিশালে একটি চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল স্থাপন।

চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল: এক নতুন দিগন্ত:- সম্প্রতি চীন সরকার বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশে তিনটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

এসব হাসপাতালের মধ্যে একটি ১ হাজার শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল নীলফামারীতে, আরেকটি চট্টগ্রামে ৫০০–৭০০ শয্যার একটি জেনারেল হাসপাতাল এবং একটি ১০০ শয্যার রিহ্যাবিলিটেশন হাসপাতাল ঢাকার ধামরাইয়ে নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে।

কিন্তু দক্ষিণাঞ্চল? এত বড় একটি জনপদের কোথাও কোনো হাসপাতালের নাম নেই। অথচ বরিশাল বিভাগে প্রায় এক কোটি মানুষ বসবাস করেন। এখানকার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা দেশের সবচেয়ে পশ্চাৎপদগুলোর মধ্যে একটি।

এমন অবস্থায় বরিশালে চায়না ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের একটি শাখা স্থাপন সময়োপযোগী ও জরুরি একটি পদক্ষেপ।

দক্ষিণাঞ্চল মানেই বঞ্চনা:- নলছিটি সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান মাহমুদা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দক্ষিণাঞ্চল মানেই বঞ্চনা—বরিশালের প্রতি বৈষম্য কতদিন চলবে?” তার কথার মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমে আছে।

চিকিৎসা, শিক্ষা, অবকাঠামো—সব ক্ষেত্রেই এই অঞ্চলের পিছিয়ে পড়ার কারণ একটাই—নীতি নির্ধারণে দক্ষিণাঞ্চলের কণ্ঠস্বর নেই।

স্বাস্থ্য খাতেই যদি নজর দিই, দেখা যায় বরিশালে একমাত্র শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে। কিন্তু এটি বছরের পর বছর ধরে অবকাঠামো ও জনবল সংকটে ভুগছে। নেই আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসার সুবিধা, নেই হৃদরোগ ইনস্টিটিউট।

এমনকি উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষা সেবাও সুলভ নয়। ফলে সাধারণ রোগ থেকে শুরু করে জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের ঢাকামুখী হওয়া ছাড়া বিকল্প থাকে না। এতে সময় ও খরচ—দুটিই বাড়ে, এবং অনেক সময় জীবনও হুমকির মুখে পড়ে।

ঢাকামুখী চাপ কমাতে বরিশালকে গুরুত্ব দিন:-

ঢাকায় ইতোমধ্যে একটি চায়না ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল রয়েছে, যা উন্নত চিকিৎসা সেবার একটি মডেল হয়ে উঠেছে। বরিশালে একই ধরনের একটি হাসপাতাল স্থাপন করা হলে শুধু বরিশাল নয়, আশেপাশের আরও অন্তত ১০–১৭টি জেলার মানুষ এতে উপকৃত হবে।

ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি, পিরোজপুরসহ নদীবেষ্টিত অসংখ্য দুর্গম এলাকার মানুষ ঢাকার পরিবর্তে বরিশালেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন।

এছাড়া বরিশাল ভৌগোলিকভাবে দক্ষিণাঞ্চলের কেন্দ্রবিন্দু। বরিশাল থেকে নদীপথ, সড়কপথ ও ভবিষ্যতে সম্ভাব্য রেলপথ ব্যবহার করে পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা সম্ভব। বরিশাল হয়ে উঠতে পারে দক্ষিণাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা হাব।

অবকাঠামোগত প্রস্তুতিও রয়েছে:- সরকার চাইলে বরিশালে দ্রুত জমি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব। শহরের আশপাশে পর্যাপ্ত সরকারি জমি রয়েছে যেখানে চায়না ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল নির্মাণ করা যেতে পারে।

বরিশাল-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে, বরিশাল বিমানবন্দর এবং উন্নত নৌযোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এটি একটি আদর্শ স্থান।

উন্নয়নের বৈষম্য: কখন শেষ হবে? পূর্ববর্তী সরকারের সময় বরিশাল-ভাঙ্গা ৬ লেন এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছিল। এটি বাস্তবায়িত হলে বরিশাল বিভাগ দেশের সাথে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে পারত। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে সেই প্রকল্প বাতিল করে দিয়েছে।

অন্যদিকে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য বিভাগে একের পর এক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে—মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেল, উত্তরা ক্যান্সার হাসপাতাল, ঢাকায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সম্প্রসারণ ইত্যাদি। দক্ষিণাঞ্চল বরাবরই এসব উন্নয়নের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

শিক্ষা ও গবেষণায়ও পিছিয়ে বরিশাল:- শুধু স্বাস্থ্য নয়, শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও বরিশাল অবহেলিত। এখানে কোনো পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নেই।

নেই আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান। আধুনিক জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে এসব প্রতিষ্ঠান জরুরি, যা দক্ষিণাঞ্চলে এখনো বাস্তবতা হয়ে ওঠেনি।

একটি হাসপাতাল হতে পারে যুগান্তকারী পদক্ষেপ:- চায়না ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল শুধুই একটি হাসপাতাল নয়, এটি আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বের প্রতীক, উন্নয়নের মডেল।

বরিশালে এর একটি শাখা হলে তা শুধু স্বাস্থ্যখাত নয়, বরিশালের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও অবদান রাখবে। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হয়ে উঠবে পর্যটন কেন্দ্র, বাড়বে কর্মসংস্থান, গড়ে উঠবে সহায়ক অবকাঠামো।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও সমাজ বিশ্লেষক পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম এর মতে, বরিশালে এই হাসপাতাল হলে দক্ষিণাঞ্চলের চিকিৎসা, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এক নতুন গতিপথ পাবে।

বরিশাল হয়ে উঠতে পারে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু।

দক্ষিণাঞ্চল আর নীরব থাকবে না:- দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ এখন প্রশ্ন তোলে—আমরা কি বাংলাদেশের বাইরে? কেন আমাদের জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনায় কোনো বরাদ্দ থাকে না? কেন স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, অবকাঠামোতে আমরা পিছিয়ে?

সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আমাদের কণ্ঠস্বর নেই বলেই কি এই অবহেলা? এসব প্রশ্নের উত্তর এখন সময়ের দাবি।

আমাদের দাবি:- ১. বরিশালে চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল স্থাপন।

২. বরিশাল-ভাঙ্গা ৬ লেন এক্সপ্রেসওয়ে পুনরায় চালু।

৩. বরিশালে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার ও হৃদরোগ ইনস্টিটিউট।

৪. বরিশালে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।

৫. বরিশালের পর্যাপ্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিনিধিত্ব।

৬. ফরিদপুর–বরিশাল–কুয়াকাটা রেল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন।

পরিশেষে, বাংলাদেশের একটি টেকসই, সমতাভিত্তিক ও মানবিক উন্নয়ন কাঠামো গঠনের জন্য বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলকে তার প্রাপ্য গুরুত্ব দিতে হবে।

একটি চায়না ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল বরিশালে স্থাপন করা হলে তা হবে একটি প্রতীকী নয়, কার্যকর পদক্ষেপ। এটি শুধু স্বাস্থ্যসেবা নয়, উন্নয়ন ও সমতার বার্তা বহন করবে।

এখন সময় এসেছে, দক্ষিণাঞ্চলের কণ্ঠ আর নিস্তব্ধ থাকবে না। আমরা আমাদের ন্যায্য দাবি আদায় করেই ছাড়বো ইনশাআল্লাহ ।

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।

সারাদেশ

নিখোঁজের ২ দিন পর মেঘনায় ভেসে উঠলো পুলিশ সদস্যের নিথর দেহ

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহন উপজেলায় মৎস্য অভিযানে গিয়ে লঞ্চের ধাক্কায় স্পিডবোট উল্টে নিখোঁজ হওয়ার দুইদিন পর পুলিশ কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলামের সন্ধান মিলেছে। শুক্রবার বিকেলে দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বটতলা এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে পড়েছিল ওই পুলিশ কনস্টেবলের নিথর দেহ। তিনি লালমোহন উপজেলার মঙ্গলসিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন থানার […]

নিখোঁজের ২ দিন পর মেঘনায় ভেসে উঠলো পুলিশ সদস্যের নিথর দেহ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২০ মার্চ ২০২৬, ২৩:০২

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি:

ভোলার লালমোহন উপজেলায় মৎস্য অভিযানে গিয়ে লঞ্চের ধাক্কায় স্পিডবোট উল্টে নিখোঁজ হওয়ার দুইদিন পর পুলিশ কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলামের সন্ধান মিলেছে। শুক্রবার বিকেলে দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বটতলা এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে পড়েছিল ওই পুলিশ কনস্টেবলের নিথর দেহ। তিনি লালমোহন উপজেলার মঙ্গলসিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম বলেন, গত বুধবার সন্ধ্যার পর মঙ্গলসিকদার লঞ্চঘাট এলাকা থেকে মেঘনা নদীতে মৎস্য অভিযানের জন্য মৎস্য অফিসের ৩ সদস্য ও একজন পুলিশ অফিসারসহ ৩ জন কনস্টেবল স্পিডবোটে করে মেঘনা নদীতে রওয়ানা দেন।

এ সময় যাত্রীবাহী লঞ্চ কর্ণফুলী-১২ এর সঙ্গে ধাক্কা লেগে স্পিডবোটটি উল্টে যায়। এ ঘটনায় ওই স্পিডবোটে থাকা সবাই তীরে উঠতে পারলেও নদীতে ডুবে নিখোঁজ হয়ে যান কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলাম। তাকে উদ্ধার করতে গত দুইদিন ধরে কাজ করেছেন নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা।

তিনি আরও বলেন, শুক্রবার বিকেলে খবর পাওয়া যায় দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বটতলা এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে পুলিশের পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তির মরদেহ পড়েছিল।

স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে দৌলতখান থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করেন। দৌলতখান থানা পুলিশের দেওয়া তথ্যে আমরা নিশ্চিত হই ওই মরদেহটি নিখোঁজ কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলামের। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সারাদেশ

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুল্লাহ গ্রেপ্তার

চেক ডিজঅনারের একটি মামলায় পাবনা-২ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘হ্যাঁ’ ভোটের অ্যাম্বাসেডর ও দলের যুব সংগঠন যুবশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে সুজানগর উপজেলার হাটখালী ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে কামালপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। পরে তাকে সুজানগর থানায় হস্তান্তর করা হয়। তিনি […]

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুল্লাহ গ্রেপ্তার

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুল্লাহ গ্রেপ্তার

নিউজ ডেস্ক

১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:০৫

চেক ডিজঅনারের একটি মামলায় পাবনা-২ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘হ্যাঁ’ ভোটের অ্যাম্বাসেডর ও দলের যুব সংগঠন যুবশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে সুজানগর উপজেলার হাটখালী ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে কামালপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। পরে তাকে সুজানগর থানায় হস্তান্তর করা হয়। তিনি ওই গ্রামের আকমল শিকদারের ছেলে।

পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালে জামালপুর জেলার একটি চেক ডিজঅনার মামলায় তিনি এক মাসের কারাদণ্ড ও তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পক্ষে প্রচারণা শেষে বাড়িতে অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

তবে গ্রেপ্তারকে হয়রানিমূলক দাবি করেছে আসাদুল্লাহর পরিবার। তার স্ত্রী নাঈমা আক্তার রিমা বলেন, গভীর রাতে বাসা থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে এবং পারিবারিক ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, তিনি ওই মামলার সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন বলেই আইনানুগভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।