শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

বরিশালে চায়না ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল চাই: চিকিৎসা বঞ্চিত দক্ষিণাঞ্চলের এখনই সময়

স্বাস্থ্য সেবা একটি মৌলিক অধিকার। অথচ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল, বিশেষ করে বরিশাল, যুগ যুগ ধরে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত। যখন আমরা উন্নয়নের কথা বলি, তখন এর প্রতিটি শাখা—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, যোগাযোগ—সমভাবে বিবেচনায় আসা উচিত। অথচ বাস্তবচিত্র বলছে, দক্ষিণাঞ্চলের প্রতি সেই সমতা বরাবরই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। তাই সময় এসেছে এই অবহেলিত অঞ্চলের পক্ষে সুনির্দিষ্ট দাবি তোলার। সেই […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২০ এপ্রিল ২০২৫, ১৩:৩১

স্বাস্থ্য সেবা একটি মৌলিক অধিকার। অথচ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল, বিশেষ করে বরিশাল, যুগ যুগ ধরে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত। যখন আমরা উন্নয়নের কথা বলি, তখন এর প্রতিটি শাখা—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, যোগাযোগ—সমভাবে বিবেচনায় আসা উচিত।

অথচ বাস্তবচিত্র বলছে, দক্ষিণাঞ্চলের প্রতি সেই সমতা বরাবরই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। তাই সময় এসেছে এই অবহেলিত অঞ্চলের পক্ষে সুনির্দিষ্ট দাবি তোলার। সেই দাবির প্রথম সারিতে থাকা উচিত—বরিশালে একটি চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল স্থাপন।

চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল: এক নতুন দিগন্ত:- সম্প্রতি চীন সরকার বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশে তিনটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

এসব হাসপাতালের মধ্যে একটি ১ হাজার শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল নীলফামারীতে, আরেকটি চট্টগ্রামে ৫০০–৭০০ শয্যার একটি জেনারেল হাসপাতাল এবং একটি ১০০ শয্যার রিহ্যাবিলিটেশন হাসপাতাল ঢাকার ধামরাইয়ে নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে।

কিন্তু দক্ষিণাঞ্চল? এত বড় একটি জনপদের কোথাও কোনো হাসপাতালের নাম নেই। অথচ বরিশাল বিভাগে প্রায় এক কোটি মানুষ বসবাস করেন। এখানকার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা দেশের সবচেয়ে পশ্চাৎপদগুলোর মধ্যে একটি।

এমন অবস্থায় বরিশালে চায়না ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের একটি শাখা স্থাপন সময়োপযোগী ও জরুরি একটি পদক্ষেপ।

দক্ষিণাঞ্চল মানেই বঞ্চনা:- নলছিটি সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান মাহমুদা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দক্ষিণাঞ্চল মানেই বঞ্চনা—বরিশালের প্রতি বৈষম্য কতদিন চলবে?” তার কথার মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমে আছে।

চিকিৎসা, শিক্ষা, অবকাঠামো—সব ক্ষেত্রেই এই অঞ্চলের পিছিয়ে পড়ার কারণ একটাই—নীতি নির্ধারণে দক্ষিণাঞ্চলের কণ্ঠস্বর নেই।

স্বাস্থ্য খাতেই যদি নজর দিই, দেখা যায় বরিশালে একমাত্র শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে। কিন্তু এটি বছরের পর বছর ধরে অবকাঠামো ও জনবল সংকটে ভুগছে। নেই আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসার সুবিধা, নেই হৃদরোগ ইনস্টিটিউট।

এমনকি উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষা সেবাও সুলভ নয়। ফলে সাধারণ রোগ থেকে শুরু করে জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের ঢাকামুখী হওয়া ছাড়া বিকল্প থাকে না। এতে সময় ও খরচ—দুটিই বাড়ে, এবং অনেক সময় জীবনও হুমকির মুখে পড়ে।

ঢাকামুখী চাপ কমাতে বরিশালকে গুরুত্ব দিন:-

ঢাকায় ইতোমধ্যে একটি চায়না ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল রয়েছে, যা উন্নত চিকিৎসা সেবার একটি মডেল হয়ে উঠেছে। বরিশালে একই ধরনের একটি হাসপাতাল স্থাপন করা হলে শুধু বরিশাল নয়, আশেপাশের আরও অন্তত ১০–১৭টি জেলার মানুষ এতে উপকৃত হবে।

ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি, পিরোজপুরসহ নদীবেষ্টিত অসংখ্য দুর্গম এলাকার মানুষ ঢাকার পরিবর্তে বরিশালেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন।

এছাড়া বরিশাল ভৌগোলিকভাবে দক্ষিণাঞ্চলের কেন্দ্রবিন্দু। বরিশাল থেকে নদীপথ, সড়কপথ ও ভবিষ্যতে সম্ভাব্য রেলপথ ব্যবহার করে পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা সম্ভব। বরিশাল হয়ে উঠতে পারে দক্ষিণাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা হাব।

অবকাঠামোগত প্রস্তুতিও রয়েছে:- সরকার চাইলে বরিশালে দ্রুত জমি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব। শহরের আশপাশে পর্যাপ্ত সরকারি জমি রয়েছে যেখানে চায়না ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল নির্মাণ করা যেতে পারে।

বরিশাল-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে, বরিশাল বিমানবন্দর এবং উন্নত নৌযোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এটি একটি আদর্শ স্থান।

উন্নয়নের বৈষম্য: কখন শেষ হবে? পূর্ববর্তী সরকারের সময় বরিশাল-ভাঙ্গা ৬ লেন এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছিল। এটি বাস্তবায়িত হলে বরিশাল বিভাগ দেশের সাথে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে পারত। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে সেই প্রকল্প বাতিল করে দিয়েছে।

অন্যদিকে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য বিভাগে একের পর এক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে—মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেল, উত্তরা ক্যান্সার হাসপাতাল, ঢাকায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সম্প্রসারণ ইত্যাদি। দক্ষিণাঞ্চল বরাবরই এসব উন্নয়নের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

শিক্ষা ও গবেষণায়ও পিছিয়ে বরিশাল:- শুধু স্বাস্থ্য নয়, শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও বরিশাল অবহেলিত। এখানে কোনো পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নেই।

নেই আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান। আধুনিক জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে এসব প্রতিষ্ঠান জরুরি, যা দক্ষিণাঞ্চলে এখনো বাস্তবতা হয়ে ওঠেনি।

একটি হাসপাতাল হতে পারে যুগান্তকারী পদক্ষেপ:- চায়না ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল শুধুই একটি হাসপাতাল নয়, এটি আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বের প্রতীক, উন্নয়নের মডেল।

বরিশালে এর একটি শাখা হলে তা শুধু স্বাস্থ্যখাত নয়, বরিশালের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও অবদান রাখবে। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হয়ে উঠবে পর্যটন কেন্দ্র, বাড়বে কর্মসংস্থান, গড়ে উঠবে সহায়ক অবকাঠামো।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও সমাজ বিশ্লেষক পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম এর মতে, বরিশালে এই হাসপাতাল হলে দক্ষিণাঞ্চলের চিকিৎসা, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এক নতুন গতিপথ পাবে।

বরিশাল হয়ে উঠতে পারে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু।

দক্ষিণাঞ্চল আর নীরব থাকবে না:- দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ এখন প্রশ্ন তোলে—আমরা কি বাংলাদেশের বাইরে? কেন আমাদের জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনায় কোনো বরাদ্দ থাকে না? কেন স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, অবকাঠামোতে আমরা পিছিয়ে?

সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আমাদের কণ্ঠস্বর নেই বলেই কি এই অবহেলা? এসব প্রশ্নের উত্তর এখন সময়ের দাবি।

আমাদের দাবি:- ১. বরিশালে চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল স্থাপন।

২. বরিশাল-ভাঙ্গা ৬ লেন এক্সপ্রেসওয়ে পুনরায় চালু।

৩. বরিশালে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার ও হৃদরোগ ইনস্টিটিউট।

৪. বরিশালে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।

৫. বরিশালের পর্যাপ্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিনিধিত্ব।

৬. ফরিদপুর–বরিশাল–কুয়াকাটা রেল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন।

পরিশেষে, বাংলাদেশের একটি টেকসই, সমতাভিত্তিক ও মানবিক উন্নয়ন কাঠামো গঠনের জন্য বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলকে তার প্রাপ্য গুরুত্ব দিতে হবে।

একটি চায়না ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল বরিশালে স্থাপন করা হলে তা হবে একটি প্রতীকী নয়, কার্যকর পদক্ষেপ। এটি শুধু স্বাস্থ্যসেবা নয়, উন্নয়ন ও সমতার বার্তা বহন করবে।

এখন সময় এসেছে, দক্ষিণাঞ্চলের কণ্ঠ আর নিস্তব্ধ থাকবে না। আমরা আমাদের ন্যায্য দাবি আদায় করেই ছাড়বো ইনশাআল্লাহ ।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।