ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার তেঘরিয়া ইউনিয়নের বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে খোরশেদ আলম জমিদারকে আহ্বায়ক ও সামিউল্লাহকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
গত ২০ মার্চ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী ও সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবুর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
কমিটিতে সামিউল্লাহকে তেঘরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিবের পদ দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন নেতাকর্মীরা।
তেঘরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন, সামিউল্লাহ আওয়ামী লীগের লোক ছিলেন। তার সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু সঙ্গে ওঠাবসা ছিল। এমনকি বিপু সামিউল্লাহর বাসায় বেড়াতে আসতেন। সে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অর্থ দিয়ে সহায়তা করতেন।
এ ছাড়া দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদের পক্ষে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। আওয়ামী লীগের নানা কর্মসূচিতে অংশ নিতেন তিনি।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হঠাৎ বিএনপির লোক বনে যান সামিউল্লাহ। নতুন কমিটিতে সামিউল্লাহ নাম দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক এক যুবদল নেতা বলেন, ‘মাঠে লড়াই-সংগ্রাম করি আমরা। হঠাৎ কেউ এসে সাধারণ সম্পাদক পদ পেলে তা মেনে নেওয়া যায় না। ৫ আগস্টের পরে জন্ম নেওয়া কোনো নেতা তেঘরিয়া ইউনিয়নে রাজনীতি করতে পারবেন না।
যিনি আওয়ামী লীগের এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যানকে জয়ী করতে মাঠে-ময়দানে নৌকা ও আনারসের জন্য ভোট ডাকাতি করতে পারেন, তিনি কীভাবে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হন।
দীর্ঘ পৌনে ১৬ বছর আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আমাদের নেতাকর্মীরা রাজনীতি করেছেন।
সেখানে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিশে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ক্ষতিসাধন করা ব্যক্তিকে যদি সাধারণ সম্পাদক করা হয়, তাহলে বিষয়টি উচিত হয়নি। সাধারণ সম্পাদক করার জন্য কি বিএনপির লোকের অভাব হয়েছে?’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সামিউল্লাহ বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতি সঙ্গে জড়িত ছিলাম। আমি কখনোই আওয়ামী লীগ করিনি। একটা এমপি যদি আমার বাসায় আসে তাহলে অবশ্যই তাকে সম্মান করতে হবে।
বিপু যখন আমার বাসায় আসেন তখন তার সঙ্গে ছবি তোলা হয়। কিছু কুচক্রীমহল এই ছবি দিয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক মুয়াদ্দেদ আলী বাবুকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি সাড়া দেননি।

এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব বলে কি আপনি মনে করেন?