নাফ নদীতে মাছ শিকারে যাওয়া টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের অদূরে মিয়ানমারের আরকান আর্মি নৌকাসহ ৫ মাঝিমাল্লাকে ধরে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৮ অক্টোবর) বিকালে টেকনাফের নয়াপাড়া নাফনদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত জেলেদের ফেরত দেয়নি তারা।
জেলেরা হলেন- রাশেদ হোসেন, মো. বোরহান, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ রাশেল ও মোহাম্মদ আলম।
তারা ৫ জনই টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জালিয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তথ্যটি স্বীকার করে টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুস সালাম বলেন, আমার এলাকার ৫ জেলে নাফ নদীতে মাছ ধরতে গেলে তাদের ধরে নিয়ে যায় মিয়ানমার বাহিনী। তাদের কারা নিয়ে গেছে সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সেদেশে চলমান যুদ্ধে রাখাইন রাজ্যের অধিকাংশ অঞ্চল আরকান আর্মির দখলে চলে গেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, আরকান আর্মি সদস্যরাই তাদের নিয়ে গেছে।স্থানীয় জেলেদের ভাষ্যমতে, মঙ্গলবার সকালে প্রতিদিনের মতো টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জালিয়া পাড়ার বাসিন্দা আবদুল মজিদের মালিকানাধীন ৩টি নৌকা নাফ নদীতে মাছ শিকারে যায়। এসময় মিয়ানমারের আরকান আর্মি সদস্যরা অস্ত্র-সশস্ত্র নিয়ে জেলেদের ধাওয়া করে। এতে দুটি নৌকাসহ মাঝিমাল্লারা পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও মজিদের নৌকাসহ ৫ জন মাঝিমাল্লাকে ধরে নিয়ে যায়।
অপহরণের শিকার জেলে মো. আলমের মা হামিদা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিদিনের মতো আমার ছেলে অন্য জেলেদের সঙ্গে নাফ নদীতে মাছ শিকারে যায়। এসময় তাদের ধাওয়া করে। অন্য জেলেরা পালিয়ে আসতে পারলেও আমার ছেলেসহ পাচঁজন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরকান আর্মির লোকজন। এখন পর্যন্ত আমার ছেলের কোন খোঁজ পাইনি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আদনান চৌধুরী গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি।
তাদের ফেরত আনতে কোস্টগার্ড ও বিজিবির সঙ্গে কথা চলছে। এ বিষয়ে টেকনাফস্থ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল মহিইদ্দীন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে।
তিনি বলেন, আশা করছি, তাদের দ্রুত ফেরত আনতে সক্ষম হবো।